কোনো গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি থাকবে না পুঁজিবাজার: প্রেস সচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আর কোনো গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য একটি গভীর ও নির্মোহ রিফর্ম প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যাতে আর কোনো গোষ্ঠী স্বার্থে বাজার পরিচালিত না হয়।
রবিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু আলী।
শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ডাকাতদের আড্ডা হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছেন, পুঁজি হারিয়েছেন। অতীতে যাঁরা সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরাই গোষ্ঠী স্বার্থ দেখেছেন। ফলে বড় খেলোয়াড়রা লাভবান হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারে যারা সংস্কারে আসছেন, তাদের অনেকেই আরেকটা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, এখানে নির্মোহ ও শক্তিশালী রিফর্ম দরকার। এজন্য তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ফরেন এক্সপার্টদের এনে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
প্রেস সচিব আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, একটি ব্রডার ইকোনমিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশি অর্থনীতি টেক অফ করতে পারে। তখন এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়বে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো ধোঁয়াশা নেই— আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি বলেন, “যারা শেয়ারবাজারে ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ব্যক্তিদের আশপাশে ছিলেন, তারা সবাই কোটিপতি হয়েছেন। সেই ব্যবস্থা আর চলবে না। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর সংস্কার হবে।”
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর একসময় ভূমিকম্পের মতো দুর্বল অবস্থায় ছিল। এখন আমরা সেটিকে গহ্বর থেকে পাহাড়ে তুলছি।” তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আগে মুদ্রা বিনিময় হার (কারেন্সি ফ্লোট) করা হলেও টাকার বড় অবমূল্যায়ন হয়নি— যা সংস্কারের ইতিবাচক সিগনাল।
সরকার বিদায় নেওয়ার পর বিদেশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হবে জানিয়ে শফিকুল বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের গভীর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে তারা বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ও বিনিয়োগ করে। ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপি মূলার-মার্স্ক এবং সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।”
তিনি বলেন, “যদি বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো যায়, তাহলে গ্লোবাল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং ইনভেস্টমেন্ট বাড়াবে। বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘লো কস্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ গন্তব্য।”
এফডিআই বাড়লে পুঁজিবাজারে এর প্রতিফলন পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারি এবং সামষ্টিক অর্থনীতি ঠিক থাকে, তাহলে শেয়ারবাজার স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যাবে।”
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ইন্টারেস্ট রেট বাড়িয়ে ১০ শতাংশের বেশি করেছি, যার ফলে ইনফ্লেশন কমছে। বছরের শেষে এটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব বলে মনে করছেন সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর।”
তিনি আরও বলেন, “চীনের কমার্স মিনিস্টারের নেতৃত্বে ১৫০ জনের মতো বিনিয়োগকারী জুন মাসে বাংলাদেশে আসবেন। চাইনিজ বিনিয়োগ বাড়লে জব গ্রোথ দ্রুত হবে।”
এনবিআরকে দুই ভাগ করা নিয়ে তিনি বলেন, “ট্যাক্স কালেকশনের দুর্বলতা দূর করতে সরকার এনবিআরকে বিভক্ত করেছে। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।”
প্রেস সচিবের মতে, সংস্কার, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ শেয়ারবাজারকে গোষ্ঠীপ্রভাবমুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করাতে যাচ্ছে।
