সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
আজকের সংবাদ

সেপ্টেম্বরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে

সেপ্টেম্বরে দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এ বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর হাতে থাকা মোট শেয়ার কমেছে প্রায় পৌনে ২ শতাংশ। বাজার মূলধনের হিসাবে তাদের দখল কমেছে আরও বেশি—সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা মোট শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি ৭৮ লাখে, যা আগস্ট শেষে ছিল ২ হাজার ১০ কোটি ৮ লাখ। অর্থাৎ এক মাসে তাদের হাতে থাকা শেয়ার কমেছে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ। যদিও একই সময়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ার বেড়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ। বর্তমানে ডিএসইর মূল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩৬০টি। এর মধ্যে ৩৪১টির আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমার মানে হলো, তারা বাজারে বিক্রি করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিক্রির চাপে সেপ্টেম্বরজুড়ে শেয়ারবাজারে দর পতন ঘটেছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টানা দরবৃদ্ধির সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণ বেড়েছিল, তখন সূচক বেড়েছিল ৮৩২ পয়েন্ট। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দর পতনে ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ারের দাম কমেছে, সূচক হারিয়েছে ৩২৮ পয়েন্ট।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ৯৪ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে, আর ২৫১ কোম্পানিতে কমেছে। অন্তত ১ শতাংশীয় পয়েন্ট হারে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে ২৩ কোম্পানিতে, যার টাকার মূল্য প্রায় ৩১৬ কোটি। বিপরীতে অন্তত ১ শতাংশীয় পয়েন্ট শেয়ার কমেছে ১০৪ কোম্পানিতে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

আগস্ট শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৬০ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা, যা বাজার মূলধনের ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৪৭ কোটিতে—মূল্য কমেছে ৩ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। মোট বাজার মূলধনের অনুপাতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারের অংশ নেমে এসেছে ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশে।

সেপ্টেম্বরে পুরো বাজারের মূলধনই কমেছে। আগস্টের তুলনায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭১ কোটিতে। কমার হার ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্তত ১০৪টিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মোটের ১ থেকে ২২ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছে। সর্বাধিক ২২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজে। পাশাপাশি ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ই-জেনারেশন ও ওইম্যাক্স কোম্পানিতেও বড় মাত্রায় শেয়ার বিক্রি হয়েছে। ৫ থেকে ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল, হাক্কানি পাল্প, ফাইন ফুডস, ইভিন্স টেক্সটাইল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, মনোস্পুল পেপার, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, কাট্টলী টেক্সটাইল ও সাফকো স্পিনিং মিলসে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বাজারের স্থিতিশীলতার মূল চালক। তাদের বিক্রি বাড়লে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে করে এবং দরপতনের ঝুঁকি বাড়ায়। সেপ্টেম্বরে তাদের অংশ কমার অর্থ, তারা এখন অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছে—যা বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *