বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

সংস্কারের নামে বিনিয়োগকারীদের অর্থনৈতিকভাবে গণহত্যা করছে বিএসইসি

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ২০১০ সালের ০৬ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারকে আইসিইউতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। যা ওই সরকারের পতনের দিন পর্যন্ত (২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট) ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ৫ই আগস্ট পরবর্তী বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই আইসিইউতে প্রবেশ করে সংস্কারের নামে শেয়ারবাজারের বিনিযোগকারীদের “অর্থনৈতিক গণহত্যার শিকারে” পরিণত করেছে। যার সবচেয়ে বড় প্রতিফলন বর্তমান ভয়াবহ দূর্বিসহ বাজার পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক মো: সাজ্জাদুল হক। এতে সংগঠনটির সভাপতি কাজী মো: নজরুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, এই সরকার ২০২৪ সালের ১১ই আগস্ট দায়িত্ব গ্রহনের সময় ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৬০১৫ পয়েন্ট। যা ২০২৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর নেমে এসেছে ৪৮৫০ পয়েন্টে। অর্থাৎ বিগত ১৭ মাসে সূচকের পতন হয়েছে ১১৫০ পয়েন্টের উপরে। আর দৈনিক লেনদেন ১৪০০/১৫০০ কোটি টাকা থেকে ৩৫০ কোটিতে নেমেছে। এছাড়া মার্কেট পিই ৯ এর নিচে, যাহা বিশ্বের কোন পুঁজিবাজারে নেই। পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে শেয়ারবাজার ১২ বছর আগে যেখানে ছিল তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় গেছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকগুলো যদি তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে এতটা ভয়াবহ দিন দেখতে হতো না। পুঁজিবাজারে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি না করে ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড কেন, ১০ লক্ষ কোটি টাকা দিলেও কোন ফল পাওয়া যাবে না। উল্টো সরকার আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে।
বিগত ১৭ মাসে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর শেয়ারবাজারে উৎসাহমূলক কোন একটা কাজ দেখাতে পারেনি, নিরুৎসাহিতমূলক কর্মকান্ড প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোনভাবে করেছে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ হল আন্তর্জাতিক মার্জার রুলস অনুসরন না করে ৫টি ব্যাংক মার্জার করে ব্যাংকের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার বিনিয়োগকারীদের দূর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিগত ১৭ মাসে একটাও গ্রহণযোগ্য আকর্ষণীয় কোম্পানীকে আইপিওতে আনার সক্ষমতা দেখাতে পারে নাই।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কিছু প্রস্তাবনা ও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এরমধ্যে রয়েছে-
১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিনিয়োগকারী সংগঠনের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করে বিনিয়োগকারীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সময়োপযোগী যুগান্তকারী প্রস্তাবনা থাকতে হবে। দলগুলোর ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে,পুঁজিবাজারে এবং ইন্সুরেন্স সেক্টরে কি কি Reform করবে, কি কি বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ রাখবে, তা পরিস্কার করতে হবে।
২. পুঁজিবাজারে দৈনিক শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে একই শেয়ার দিয়ে নিটিং সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই নিয়ম ইতিপূর্বে ২০০৭ সালে বাজারে ইতিবাচকভাবে প্রচলিত ছিল। এতে বাজারে প্রতিটি কোম্পানীর শেয়ারের একটি শক্তিশালী ও টেকসই মূল্যস্তর বজায় থাকবে। এই নিয়মটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজদের অনৈতিক কমিশন প্রাপ্তির লোভের কারণে পুঁজিবাজারে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
৩. বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও প্রটোকল সমান সমান করতে হবে। এতে দেশের পুরো আর্থিক খাত এবং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অযাচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুরুব্বিয়ানা দূর হয়ে সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।
আরও অনেক দাবি সুপারিশ করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *