গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে
ব্যাংক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) দিকে কঠোর নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর (নন-ভায়েবল) ঘোষণা করা হবে। এরপর ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট অ্যাসেট ভ্যালু নির্ধারণ করা হবে।এফএএস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। ব্যক্তি আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ২০টি এনবিএফআই বন্ধের উদ্যোগ নিলেও ১১টি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পরিকল্পনা জমা দেয়। সেসব পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
