সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
কোম্পানি সংবাদ

আইপিওর অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকদের জরিমানা

শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ প্রসপেক্টাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবহার না করার অভিযোগে সিকদার ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিওর অর্থ ব্যবহারে বিভিন্ন অনিয়ম এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির পর্ষদ সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সিকদার ইন্স্যুরেন্স ২০২৩ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), একটি অংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি টাকার বেশি ফ্লোর কেনা এবং বাকি অর্থ আইপিও-সংক্রান্ত খরচে ব্যবহারের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত শর্ত ও সময়সীমা অনুযায়ী তহবিল ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানিটি।

বিএসইসির তদন্তে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। অথচ আইপিও প্রসপেক্টাসে এ খাতে বিনিয়োগের সীমা ছিল ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা এফডিআরে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের আগে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশের বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, আইপিও তহবিল থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সিকদার ইন্স্যুরেন্স। তবে কোম্পানিটি প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে পেরেছে। বাকি ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকে পড়ে রয়েছে। ফলে প্রসপেক্টাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। বিএসইসির মতে, এই অর্থ যথাসময়ে বিনিয়োগে ব্যর্থতার কারণে কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের পরিপন্থী।

ফ্লোর কেনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে। আইপিও তহবিল থেকে ফ্লোর কেনার জন্য ৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই অর্থের কোনো বিনিয়োগ করেনি কোম্পানিটি। নির্ধারিত খাতে অর্থ ব্যবহার না করায় কোম্পানিকে এখনো অফিসের জন্য ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মুনাফায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে বিএসইসির তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিওর অর্থ প্রসপেক্টাসে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী ব্যবহার না করা এবং সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক নাসিম সিকদার, মমতাজুল হক সিকদার, লিসা ফাতেমা হক সিকদার, মোহতাসিম বিল্লাহ খান, মনিকা সিকদার খান, জোনাস সিকদার খান, সালাহ উদ্দিন খান, জেফরি খান সিকদার ও মানডি খান সিকদারকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

একই জরিমানা করা হয়েছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আব্দুর রাজ্জাককে। নির্ধারিত জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিও প্রসপেক্টাসে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী তহবিল ব্যবহার না করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ বিষয়ে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রফিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কোম্পানি সচিব আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনিও ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিকদার ইন্স্যুরেন্স বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৫০ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *