ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়মিত রেকর্ড গড়ছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়মিত রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের জুন শেষে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বছরে খেলাপি বেড়েছে ৩০ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কম দেখাতে পুনঃতফসিলের নীতি উদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন নিজেরাই যেকোনো ঋণ পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। পলিসি শিথিলতার এই সুযোগে ব্যাংকগুলোও ঋণ পুনঃতফসিলের রেকর্ড গড়েছে। শুধুমাত্র ২০২২ সালে, ব্যাংকগুলির পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। চলতি বছরেও ঋণ পুনঃতফসিল অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। এ সময় খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। অন্য কথায়, ১০.১১ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এখন খেলাপি, যা আন্তর্জাতিক মানের তিনগুণেরও বেশি। কারণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সহনীয় বলে ধরা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। সে অনুযায়ী তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি বেড়েছে ৩৫ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। তবে এক বছরের ব্যবধানে তা কিছুটা বেড়েছে। কারণ সাধারণত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি কমাতে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেয়।
২০২২ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৩০ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।
