বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

আমানতকারীদের রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা উদ্যোগ: বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে দর্শক বিএসইসি

বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতকে লুটপাটের কেন্দ্রস্থল বানিয়েছিল এস.আলম, সালমান এফ রহমান, নজরুল ইসলাম, পারভেজ তমালরা। এতে করে লাখ লাখ কোটি টাকার আমানত ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছেন না। এই অবস্থায় আমানতকারীদের স্বার্থ উদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ওইসব ব্যাংকের মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদেরকে নিয়ে ভাবনা নেই কারো। যেখানে হাজার হাজার সাধারন বিনিয়োগকারীর মালিকানা রয়েছে। তারাও আমানতকারীদের মতো ক্ষতির মূখে। তাদের স্বার্থ রক্ষায় শেয়ারবাজারের রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এগিয়ে আসা দায়িত্ব হলেও দর্শক ভূমিকায় রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দায়িত্ব বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু তারা আবুল খায়ের হিরু, সালমান এফ রহমান, সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজনকে আর্থিক শাস্তি দেওয়ার মধ্যে নিজেদের কর্মকান্ড আবদ্ধ করে রেখেছে। তারপরেও ১ টাকা আদায় করতে পারছে না। শুধুমাত্র কাগজে কলমে শাস্তির মধ্যে আটকে আছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর এক পুরাতন ব্রোকার অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, বিএসইসি শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ করছে না। যাকে যেমন খুশি শাস্তি দিয়ে দিচ্ছে, সেটা কার্যকর করতে না পারলেও। এই অযৌক্তিক শাস্তি একসময় বিএসইসির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কারন বিএসইসির শাস্তির বিষয়ে সবাই আদালতে যাবে। সেখানে এগুলো টিকবে না। তবে বিএসইসির আর্থিক খরচ ও সময় ব্যয় ঠিকই হবে।
অথচ বিনিয়োগকারীদের ব্যাংকগুলো থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। এখন ওইসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ন্যায় বিনিয়োগকারীরাও পথের ফকির। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে ৫টি ব্যাংক একীভূত করা হবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উদ্ধার এক্ষেত্রে উপেক্ষিত। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ না। এর মূল দায়িত্ব বিএসইসির।
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে জালিয়াতির জন্য স্পনসর, পরিচালক, উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার এবং শীর্ষ নির্বাহীদের দায়ী করা হবে। “কোনও কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কারণে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বঞ্চিত করা উচিত নয়”।
এরইমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সংস্কারের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ৫টি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই পাঁচ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোতে অস্থায়ী প্রশাসনিক দল নিয়োগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সবগুলোই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ বা মালিকানা রয়েছে। আমানতকারীদের ন্যায় তারাও এরইমধ্যে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫টি ব্যাংকের শেয়ার দরই অনেক তলানিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *