ইউসিবি থেকে ২০০০ কোটি টাকা সরিয়েছে জেনেক্স ইনফোসিসের আদনান ইমাম
ইউসিবি থেকে ২ হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন সাইফুজ্জামান–ঘনিষ্ঠরা
বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে জেনেক্স ইনফোসিসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমামের চার প্রতিষ্ঠান। এই ঋণ দিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কমিটি কোনো সুপারিশ না করলেও পরিচালনা পর্ষদে তা অনুমোদিত হয়েছে। এর বাইরে যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার কিনেও লোকসানে পড়ে ব্যাংকটি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই সময়ে এসব অনিয়ম হয়।
ইউসিবিতে যখন এসব অনিয়ম ঘটে, তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ওরফে জাভেদের স্ত্রী রুকমিলা জামান ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তাঁর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী। মোহাম্মদ আদনান ইমাম যুক্তরাজ্যের নাগরিক, সে দেশে আবাসন খাতে তাঁর ব্যবসা রয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরীর শুধু যুক্তরাজ্যেই ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৩ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি। আবাসন খাতের চিঠিতে তিনি বলেন, ২০২১ সালের শেষের দিকে আগের পর্ষদের অনুমোদনক্রমে আমের রাসূল ও জাহারা রাসূলের কাছ থেকে জেনেক্স ইনফোসিসের ৬০ কোটি ৫৪ লাখ লকড-ইন শেয়ার কেনে ইউসিবি। এই শেয়ার ক্রয় থেকে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ইউসিবি।
এই শেয়ারের বিক্রেতা আমের ও জাহারা রাসূল ম্যানেজমেন্টকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি তৎকালীন পর্ষদ চেয়ারম্যানের কাছে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। তৎকালীন পর্ষদ স্বতন্ত্রভাবে তাদের প্রস্তাব রিভিউ ও অনুমোদন করে।
চিঠিতে তিন আরও বলেন, আদনান ইমাম জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং শেয়ার বিক্রেতা আমের রাসূল ও জাহারা রাসূল যথাক্রমে আদনান ইমামের শ্যালক ও বোন।
শেয়ার ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জহির বলেন, লেনদেন ত্বরান্বিত করতে ব্যাংকের তৎকালীন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান ও আদনান ‘অন্যায় প্রভাব’ খাটিয়েছিলেন।
জহির অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তিটি করা হয়েছিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য। শেয়ার বিক্রেতা ও সাবেক পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে সম্ভাব্য অবৈধ যোগসাজশের ইঙ্গিত দেন তিনি।
এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান, সাবেক পর্ষদ সদস্য, শেয়ার বিক্রেতা আমের ও জাহারা রাসূল, আদনান ও আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন জহির।
ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বেশ কিছু পরিবর্তনের পর ২৯ আগস্ট শরীফ জহির ইউসিবির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শরীফ জহির।
