উৎপাদনে যাচ্ছে বিডি থাই ফুড
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড দুটি পৃথক কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বা চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সজীব গ্রুপ এবং এভারগ্রিন বেভারেজ লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন চুক্তির আওতায় সজীব গ্রুপ বিডি থাই ফুডের কারখানায় তাদের ‘উইংস’ (Wings) ব্র্যান্ডের কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস (সিএসডি) উৎপাদন করবে। অন্যদিকে এভারগ্রিন বেভারেজ লিমিটেড একই কারখানায় তাদের ‘সানক্রেস্ট’ (Suncrest) ব্র্যান্ডের কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস উৎপাদন করবে।
এ জন্য উভয় প্রতিষ্ঠান বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে পূর্বনির্ধারিত কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং চার্জ পরিশোধ করবে। এসব অর্থ কোম্পানির ইউটিলিটি ব্যয়, বেতন-ভাতা, কারখানার ওভারহেড ব্যয় এবং আর্থিক খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হবে।
কোম্পানির মতে, এ দুটি চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে তাদের কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস উৎপাদন লাইনের মোট সক্ষমতার ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা হবে সজীব গ্রুপ ও এভারগ্রিন বেভারেজের পণ্য উৎপাদনে। বাকি ৩০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে বিডি থাই ফুড তাদের নিজস্ব ‘নেকটার’ (Nectar) ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন করবে।
ফলে কোম্পানির সিএসডি উৎপাদন লাইন শতভাগ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পাবে এবং শেয়ারহোল্ডার ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
এদিকে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে তাদের কারখানায় টানা তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় দুর্বৃত্তরা উল্লেখযোগ্য মূল্যের বৈদ্যুতিক কেবল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়। এর ফলে কারখানার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার পর কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটর এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সংশ্লিষ্ট কেবল পুনঃস্থাপন করা হয়।
কোম্পানি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন দুটি উৎপাদন চুক্তির ফলে কারখানার সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
