কোম্পানি আইনে বাইব্যাক ও মার্জার-অ্যাকুইজিশন চায় ডিবিএ
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার ও অ্যাকুইজিশন (Merger & Acquisition) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এ বিষয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি-এর কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
বুধবার ডিবিএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিবিএর সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য নিজস্ব শেয়ার বাইব্যাকের আইনগত সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন সংশোধনে প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শেয়ার বাইব্যাকের ক্ষেত্রে বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি, মনিটরিং এবং সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
একইভাবে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মার্জার ও অ্যাকুইজিশন কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পরিহারের লক্ষ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিবিএ। ডিবিএ মনে করে, পুঁজিবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিএসইসি সংশ্লিষ্ট স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অথরিটি হওয়ায় শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকা প্রয়োজন। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সংগঠনটির মতে, এসব বিষয়ে আধুনিক ও কার্যকর বিধিবিধান প্রণয়ন করা হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট পুনর্গঠন ও মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের গৃহীত উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে ডিবিএর সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
