৫২ কোটি টাকার ঋণ, অনাদায়ে দেশবন্ধু পলিমারের সম্পদ নিলামে
তালিকাভুক্ত কোম্পানি দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি, কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকের কাছে বকেয়া প্রায় ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় থেকে জারি করা এক নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সুদসহ কোম্পানিটির মোট দায় দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার সুযোগ দেওয়ার পরও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী বন্ধক রাখা সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৭ সাল থেকে দেশবন্ধু পলিমার ব্যাংকটির কাছ থেকে এলসি সুবিধা, টার্ম লোন এবং ক্যাশ ক্রেডিটসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ গ্রহণ করে। তবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পুনঃতফসিল সুবিধা নিতে প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্টও দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিলামে তোলা সম্পদের মধ্যে রয়েছে নারসিংদীর পলাশ থানার কুয়াদি মৌজায় অবস্থিত মোট ১২৯ শতাংশ জমি। পাশাপাশি চারসিন্দুর এলাকায় অবস্থিত কারখানার স্থায়ী ও ভাসমান সব সম্পদ—যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস, ভারী সরঞ্জাম এবং মজুদ পণ্যও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।
আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৪ মে দুপুর ২টার মধ্যে মতিঝিলের আদমজি কোর্টে অবস্থিত ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে সিলগালা দরপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই দিন দুপুর ২টা ১ মিনিটে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত দরদাতাদের সামনে দরপত্র খোলা হবে।
ব্যাংক জানিয়েছে, নিবন্ধিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সফল দরদাতাকে নিবন্ধন, স্ট্যাম্প ডিউটি ও প্রযোজ্য করসহ সব খরচ বহন করতে হবে।
দেশবন্ধু পলিমারের আর্থিক সংকট
২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশবন্ধু পলিমার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। কোম্পানিটির উৎপাদন ও বিক্রি গত এক বছরে মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানির রাজস্ব ৮০ শতাংশ কমে মাত্র ২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এ সময় নিট লোকসান হয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময়ে রাজস্ব ৮১ শতাংশ কমে মাত্র ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়ায় এবং ত্রৈমাসিক লোকসান হয় ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৯ পয়সা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ২৪ কোটি টাকা লোকসান করায় কোম্পানিটি কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারেনি।
