পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ডের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ডের ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থ বছর-এর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ বা শর্তসাপেক্ষ মতামত দিয়েছেন নিরীক্ষকরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত পৃথক পাঁচটি ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শর্তসাপেক্ষ মতামত পাওয়া পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ড হলো—আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-০১ , আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ১ম মিউচুয়াল ফান্ড , আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড , ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং প্রাইম ব্যাংক ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড ।
প্রথম চারটি ফান্ডের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’, ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ এবং ‘আদার ম্যাটার’—এই তিন ধরনের অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাইম ব্যাংক ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিবেদনে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ ও ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’—এই দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ এবং ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ একই বিষয় নয়। সাধারণত ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে নিরীক্ষক আর্থিক প্রতিবেদনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তবে এতে মূল নিরীক্ষা মতামত পরিবর্তিত হয় না।
অন্যদিকে, ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ দেওয়া হলে নিরীক্ষক আর্থিক প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি, অসংগতি বা পর্যাপ্ত নিরীক্ষা প্রমাণের ঘাটতি চিহ্নিত করেছেন—এমন বিষয় বোঝায়। তবে ওই বিষয়টি এতটা ব্যাপক নয় যে পুরো আর্থিক প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
অর্থাৎ, নিরীক্ষক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট না হলেও আর্থিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না।
তবে পাঁচটি ফান্ডের ক্ষেত্রে নিরীক্ষকদের আপত্তির কারণ এক নয়। তাই শুধু ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ফান্ডগুলোর আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ঠিক কোন বিষয় নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে, কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ ও ‘আদার ম্যাটার’ অংশে কী উল্লেখ করা হয়েছে—সেগুলো পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
