শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
আজকের সংবাদ

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অনিশ্চয়তা কাটাতে বিএসইসির আশ্বাস

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাত নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা কাটাতে স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পর্যালোচনা ও সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে বাজার অংশীজনদের আশ্বস্ত করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা ও সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই এই খাতের বিকাশ ঘটানো হবে—এমন ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগের সপ্তাহে বিএসইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষাপটে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর ও সম্পদ মূল্যে (এনএভি) ঢালাও পতন দেখা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে অনেক ফান্ডই পতনের সেই ধাক্কা সামলে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। শেয়ারের দর যেমন আয়, নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) এবং ক্যাশ ফ্লোর ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়, মিউচুয়াল ফান্ডের দরও সম্পদ মূল্যের ওপর নির্ভর করাটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

কিন্তু বাস্তবে শেয়ার দর যেমন শুধুমাত্র নির্ধারিত নীতিমালায় সীমাবদ্ধ থাকে না, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দরও নির্দিষ্ট ছকে লেনদেন হয় না। শেয়ার যেমন কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, মূলধন ও মালিকানার ভিত্তিতে প্রভাবিত হয়; ঠিক তেমনি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটও ফান্ডের নিজস্ব মূলধন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা এবং সুনামের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে মূল শেয়ারবাজারের অনেক কোম্পানির শেয়ার তাদের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের বহুগুণ বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। এমনকি নেগেটিভ বা ঋণাত্মক সম্পদ মূল্য থাকা সত্ত্বেও বহু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর আকাশচুম্বী হতে দেখা গেছে। অথচ সেই তুলনায় দেশের মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অধিকাংশ ইউনিট দরই বর্তমানে ফান্ডের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) চেয়ে অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে।

মাত্র দুই-চারটি ফান্ডের দর এনএভির সামান্য ওপরে উঠে এলেও সিংহভাগ ফান্ডই চরম অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। অথচ শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এমন সময়ও গেছে, যখন মিউচুয়াল ফান্ডগুলো তাদের সম্পদ মূল্যের চেয়ে ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি দরে কেনাবেচা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৌলিক সূচকের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড খাত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আকর্ষক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সময়োপযোগী ও ইতিবাচক অবস্থান এই খাতকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫’ পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্পষ্ট করে বলেন, “অংশীজনের মতামত কমিশনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল, টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

শুধুমাত্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে শেয়ারবাজারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন ছাড়া শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিকাশ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই এ খাতের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ও সমন্বিতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করার ওপরেও জোর দেন তিনি।
ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি, কাস্টোডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় ফান্ডের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

বাজারের এই ইতিবাচক মেলবন্ধন ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাসে মিউচুয়াল ফান্ড খাত দ্রুতই তার স্বাভাবিক গতি ও আস্থা ফিরে পাবে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *