শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
আজকের সংবাদ

মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ইস্যু রুলস ও পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তন করা হবে

শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ এবং পাবলিক ইস্যু (আইপিও) সংক্রান্ত বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক পরামর্শক (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার) সনদ চালু এবং মার্জিন ঋণ পাওয়ার শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশেরই ভালো কোম্পানি নির্বাচন ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা সীমিত। তাই উন্নত দেশের আদলে দেশে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা আর্থিক পরামর্শক সনদ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা পেশাদার পরামর্শের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি বলেন, ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশেও মিউচুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। ‘আমার প্রধান লক্ষ্যই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে বড় করা। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি,’ বলেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, বাজারের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিউচুয়াল ফান্ড রুলস, মার্জিন ইস্যু রুলস এবং পাবলিক ইস্যু রুলসে পরিবর্তন আনা হবে। তার মতে, এসব বিধিমালা আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব না হলে শেয়ারবাজারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আইপিও প্রক্রিয়ার জটিলতার কথা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, বর্তমানে কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আসতে বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জমা দিতে হয় এবং অনুমোদন পেতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে অনেক দ্রুত অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারায়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও সময়োপযোগী করা হবে।
মার্জিন ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধিত খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট আকারে প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা আরও সহজ শর্তে মার্জিন ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, বিএসইসিতে যোগদানের আগে তিনি প্রায় তিন মাস দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ৮০ শতাংশ সময় পরিকল্পনা এবং ২০ শতাংশ সময় বাস্তবায়নে ব্যয় করি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, শুরুতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তবে সরকার শেয়ারবাজার সংস্কারে আন্তরিক এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *