শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
আজকের সংবাদ

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৫৪ গ্রাহকের টাকা উধাও

বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি)–এর গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড থেকে অভিনব কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো লেনদেন না করলেও হঠাৎ তাদের কার্ড থেকে প্রতি বারেই ৫০ হাজার টাকা করে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে চলে যায়। পরে সেই টাকা দ্রুতই তুলে নেয় প্রতারকরা।
ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহে এসসিবির অন্তত ৫৪ জন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৭ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ব্যাংকটি জরুরি ভিত্তিতে ক্রেডিট কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্ল্যাটফর্মে অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় ব্যাংক জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে এমএফএস অ্যাপের ‘অ্যাড মানি’ অপশন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পর কয়েকজন ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। হাসিন হায়দার নামের একজন লিখেছেন, তার কার্ড থেকে হঠাৎ ৫০ হাজার টাকা কেটে নিয়ে বিকাশে পাঠানো হয়। ফোনে ওটিপি পেলেও তিনি সেটি কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই টাকা স্থানান্তর হয়ে যায়। তার দাবি, এটি ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ত্রুটি।
আরেক গ্রাহক সাদিয়া শারমিন বৃষ্টি জানান, সাত বছর ধরে কার্ড ব্যবহার করলেও এবারই প্রথম তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার অ্যাকাউন্ট থেকেও একইভাবে ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসসিবির কর্মকর্তারা বলেন, একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি দল নিরাপত্তা যাচাই করেছে। তবে ব্যাংকের নিজস্ব সিস্টেমে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। যেহেতু টাকা স্থানান্তর হয়েছে এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, তাই দায়ভার নিরূপণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে যেসব বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল, কয়েক মিনিটের মধ্যে সেগুলো থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়, একটি দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতারক চক্র এই ঘটনায় জড়িত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *