বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
কোম্পানি সংবাদ

১.৪০ কোটি টাকা জরিমানা মওকুফে বিএসইসির দ্বারস্থ প্রাইম ফাইন্যান্স

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আরোপ করা ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার জরিমানা মওকুফের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দ্বারস্থ হয়েছে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছেন। তবে বিএসইসি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী, ২০২৩ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী এবং ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাইম ফাইন্যান্সের ওপর এই জরিমানা আরোপ করা হয়।

জরিমানা মওকুফের আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইসিএল) থেকে পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ‘কুইক সামারি’ পেতে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০২১-২২ ও ২০২৩ সালের এজিএম সম্পন্ন করা হয়। তবে আগের বছরের এই জটিলতার প্রভাব পরবর্তী সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আর্থিক বিবরণী জমা দিতে বিলম্বের পেছনে এফআইসিএলের পরিদর্শন ও প্রতিবেদন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দায়ী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিলম্ব ইচ্ছাকৃত ছিল না।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ, বড় ধরনের ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধন ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা এবং মূলধন পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি চাপে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্সও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও জমা দিতে না পারার কারণে ডিএসইর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এখন সেই জরিমানা থেকে অব্যাহতি পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করেছে কোম্পানিটি।

প্রাইম ফাইন্যান্সের আর্থিক দুরবস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারেও। বর্তমানে কোম্পানিটি ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ২০১৯ অর্থবছরের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।

২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান ছিল প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮৫ পয়সা।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ৩৯ পয়সা। সর্বশেষ শেয়ারটি ২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এর মালিকানা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৫৯ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৬ শতাংশ এবং বাকি শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ লাকিয়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এখন বিএসইসির কাছে করা আবেদনটি পর্যালোচনার পর জরিমানা মওকুফ বা এ বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *