অস্বাভাবিক উত্থানের পর শার্প ইন্ডাস্ট্রিজে বড় ধস, তদন্তে বিএসইসি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ১২ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর যেখানে সর্বোচ্চ ৪৪.১০ টাকা ছিল, সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে তা নেমে এসেছে ১৯.০০ টাকায়। ফলে সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারটির দাম কমেছে ২৫.১০ টাকা বা প্রায় ৫৬.৯১ শতাংশ।
অর্থাৎ, ১২ আগস্ট ৪৪.১০ টাকা দরে ১০ হাজার শেয়ার কিনতে একজন বিনিয়োগকারীর প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হতো। ১০ সেপ্টেম্বরের ১৯ টাকা দর অনুযায়ী একই শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে কাগুজে হিসাবে ওই বিনিয়োগকারীর ক্ষতি প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা। অস্বাভাবিক উত্থানের পর ধস শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের বর্তমান পতনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে অল্প সময়ের মধ্যেই শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল।
১৫ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল প্রায় ১৭ টাকা। সেখান থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহে ১২ আগস্ট তা বেড়ে ৪৪.১০ টাকায় ওঠে—প্রায় ১৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিক পতন।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের পর শেয়ারটিতে একের পর এক বড় দরপতন দেখা যায়। ১৬ আগস্ট ৪০.৫০ টাকা, ১৭ আগস্ট ৩৭.৬০ টাকা, ১৮ আগস্ট ৩৪ টাকা এবং ১৯ আগস্ট ৩১ টাকায় নেমে আসে। পরবর্তী সময়েও বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকে।
বিএসইসি-এর তদন্তের নির্দেশ শেয়ারটির অস্বাভাবিক উত্থান ও লেনদেনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এর আগে ডিএসই-ও কোম্পানিটির কাছে অস্বাভাবিক দর ও লেনদেনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। কোম্পানির পক্ষ থেকে ডিএসই-কে জানানো হয়েছিল, শেয়ার দরের অস্বাভাবিক ওঠানামা ব্যাখ্যা করার মতো কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই। তদন্তের মাধ্যমে অস্বাভাবিক বা সমন্বিত লেনদেন, বাজার কারসাজি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার কিংবা অন্য কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। । এ ক্ষেত্রে ১৭ টাকা থেকে ৪৪.১০ টাকায় উঠে যাওয়া এবং পরে মাত্র কয়েক সপ্তাহে ১৯ টাকায় নেমে আসা বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে কোম্পানিটির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কোম্পানিটির স্পিনিং ব্যবসায় কার্যক্রমে চাপের কথা উঠে এসেছে।
