রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
আইপিও

আইপিও তহবিল ব্যবহারে আলোচিত দুই কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ

শেয়ারবাজারে আইপিও তহবিলের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা দুই কোম্পানি—সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও আমান কটন ফাইব্রাস পিএলসি—সর্বশেষ আইপিও তহবিল ব্যবহারের নিরীক্ষা প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জমা দিয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কোম্পানি দুটির এসব প্রতিবেদন ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

একসঙ্গে পাঁচ মাসের প্রতিবেদন সিলভা ফার্মার

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (ট্রেডিং কোড: SILVAPHL) মার্চ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ মাসের আইপিও তহবিল ব্যবহারের নিরীক্ষা প্রতিবেদন একই দিনে জমা দিয়েছে। প্রতিটি মাসের জন্য পৃথক প্রতিবেদন ডিএসইর ওয়েবসাইটে পিডিএফ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস। তবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তহবিল ব্যবহারে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।

কোম্পানিটি এ পর্যন্ত পাঁচবার আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে। সর্বশেষ সময়সীমা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কোম্পানিটি।

এর আগে প্রকাশিত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সিভিল নির্মাণ খাতে অনুমোদিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণ খাতে ব্যয় বরাদ্দের ১০৪ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। এতে শেয়ারহোল্ডার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রায় ২৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া কার্যকরী মূলধন ব্যবহারে কিছু অসামঞ্জস্যের কথাও নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটিকে আইপিও তহবিল দিয়ে কেনা যন্ত্রপাতি পুনর্মূল্যায়ন এবং কারখানা ভবনের বর্তমান কার্যক্রম প্রকাশের নির্দেশ দেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে আইপিও তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছিল বলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জুলাইয়ের প্রতিবেদন দিয়েছে আমান কটন

বস্ত্র খাতের কোম্পানি আমান কটন ফাইব্রাস পিএলসি (ট্রেডিং কোড: ACFL) জুলাই ২০২৬ মাসের আইপিও তহবিল ব্যবহারের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি ডিএসইর ওয়েবসাইটে পিডিএফ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে যন্ত্রপাতি কেনা ও ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিওর মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল আমান কটন। তবে আইপিও তহবিলের ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধে তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার করলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়টি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রায় ৭২ কোটি টাকা আইপিও তহবিল অব্যবহৃত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে নিরীক্ষায় আইপিও তহবিলের অর্থে তৈরি প্রায় ৭৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রশিদ (এফডিআর) অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ সুবিধার জামানত হিসেবে বন্ধক রাখার বিষয়টি উঠে আসে।

এ ঘটনায় বিএসইসি কোম্পানির পরিচালক ও নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিল ফেরত আনা ও বিষয়টি তদন্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানা যায়।

আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাসে ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিয়মিত তহবিল ব্যবহারের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস ও আমান কটনের ক্ষেত্রে এসব প্রতিবেদন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, দুই কোম্পানিরই আইপিও তহবিলের ব্যবহার নিয়ে অতীতে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আইপিও তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে নিয়মিত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *