জনতা ক্যাপিটালের সিইও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
রাষ্ট্রায়ত্ত মার্চেন্ট ব্যাংক ‘জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের’ বর্তমান সিইও শহীদুল হকের নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপতিত্বের বিষয়ে তদন্ত করছে জনতা ব্যাংক। জানা গেছে, শর্ত ভেঙে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি জেসিআইএলের সিইও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা। সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অভিযোগের বিষয়ে শহীদুল হকের ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
জানা গেছে, বিধি লঙ্ঘন করে প্রায় ৪ বছর আগে জেসিআইএলের বর্তমান সিইও শহীদুল হককে নিয়োগ দিয়েছেন জনতা ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমান। এ বিষয়ে শহীদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো সময় বিষয়টি ফয়সালা হবে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।
প্রসঙ্গত, জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হচ্ছে জেসিআইএল। এই কোম্পানির সবস্তরের লোকবল নিয়োগ কর্তৃপক্ষ জনতা ব্যাংকের পর্ষদ। ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, স্বাভাবিক বা চুক্তিভিত্তিক যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণির ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয়।
জানা গেছে, জেসিআইএলের সিইও পদে নিয়োগের জন্য ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় জনতা ব্যাংক। এতে বলা হয়, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতায় কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকলে তা অযোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হবে।
আরও জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের ২০২০ সালের ৬৩৭তম পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেসিআইএলের সিইও নিয়োগের জন্য শহীদুল হকসহ তিনজন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে তৎকালীন নিয়োগসংক্রান্ত কমিটি। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এসএম মাহফুজুর রহমান। কমিটির সদস্য ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক অজিত কুমার পাল, ডিএসইর তৎকালীন এমডি অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি। আর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি আব্দুস ছালাম আজাদ।
জানা গেছে, পর্ষদের নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের নথি কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। সেখানে পর্যায়ক্রমে মোহাম্মদ আলী, গোলাম কিবরিয়া ও শহীদুল হকের জন্য সুপারিশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শহীদুল হকের বয়স কম ও মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। বিকম (সম্মান)-এর স্থলে বিকম (পাস) এবং বিকমে তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জনতা ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী তিনজন প্রার্থীর মধ্যে কেউ নিয়োগের যোগ্য নন। আর তিনজনের মধ্যেও শহীদুল হক আরও কম যোগ্যতাসম্পন্ন। তার পরও বিধি লঙ্ঘন করে শহীদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়।
