মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

নির্বাচনের গতি পাল্টাতে পুঁজিবাজারকে হাতিয়ার বানাচ্ছে বিজেপি

ভারতে ১৮তম লোকসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে গত ১৯ এপ্রিল। সাত পর্বের এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে ৫ম পর্বের ভোট গ্রহণ চলছে। তবে ভোটের আগে ক্ষমতাসীন বিজেপি যেভাবে হুংকার দিয়ে মাঠে নামছিলো, বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ফলে নিজেদের দলের পক্ষে ভোটের সংখ্যা বাড়াতে তারা বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ে নানান প্রচারণা উল্লেখযোগ্য। বিজেপি বলছে, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে দেশটির শেয়ারবাজারে ধস নামবে। এতেই ভারতের শেয়ারবাজারে হুট করে অস্থিরতা এবং বড় দরপতন দেখা দিয়েছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর দুই সপ্তাহ আগেও সামগ্রিক পরিবেশে মনে হচ্ছিল, বিজেপির নেতৃত্বধীন এনডিএ জোট নিশ্চিতভাবে ফের ক্ষমতায় আসছে। গত নির্বাচনের চেয়ে গত বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে সেটি নিয়েই বরং চলছিল আলোচনা। গত বছর ৩০৩ জন এমপি নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি জোর গলায় দাবি করছিল, এবার তারা ৪০০ এমপি নিয়ে সরকার গঠন করবে। আর তাতেই তেতে উঠেছিল দেশটির শেয়ারবাজার। মূল্যসূচক ওঠেছিল সর্বোচ্চ উচ্চতায়।

কিন্তু প্রথম দুই পর্বের ভোটগ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনী হাওয়া বদলে যেতে থাকে। স্পষ্ট হতে থাকে, ৪০০ আসন তো দূরের কথা গতবারের সমান আসন নিয়েও বিজেপি (এনডিএ) ক্ষমতায় আসতে পারবে কি-না তা অনিশ্চিত। তৃতীয় দফা ভোট শেষে উল্টো ইন্ডিয়া জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার ঝিলিক দেখা দিতে থাকে। আর তখন থেকেই বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হতে থাকে।

সূত্র মতে, গত ১০ এপ্রিল বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক সেনসেক্স (এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স) ৭৫ হাজার ৩৮ পয়েন্ট ওঠে রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু এর পর থেকেই এ সূচক নিম্নমুখী হতে থাকে। কিছুটা ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে আজ (২১ মে) তা ৭৩ হাজার ৯৫৩ পয়েন্টে স্থির হয়। গত ১৫ দিনে এ সূচক সর্বনিম্ন ৭২ হাজার ৪০৪ পয়েন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ হাজার ৯৫৩ পয়েন্টের মধ্যে ওঠা-নামা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পুঁজিবাজারে হঠাৎ অস্থিরতার পেছনে রয়েছে দেশটিতে চলমান জাতীয় নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি। নির্বাচনী আবহের রঙ বদলের সাথে সাথে বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। আর এটিকেই এখন মোক্ষম অস্ত্র বানাতে চাচ্ছে হঠাৎ অথৈ জলে পড়ে যাওয়া বিজেপি।

জানা যায়, বিজেপির পরিবর্তে কংগ্রেস জোটের (ইন্ডিয়া) ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কিছুটা উদ্বিগ্ন করে তুলে। এর পছেনে একাধিক কারণও আছে। প্রথমত, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে বর্তমান বিজেপি সরকারের সব নীতি বহাল রাখবে কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ধনীদেরকে বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, এক ধরনের অভিজাততন্ত্র কায়েম করার অভিযোগ আছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তার জোট সঙ্গীরা নির্বাচনে ধনী-গরীবের বৈষম্য কমিয়ে আনার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীসহ দেশটির অনেকেই মনে করেন, ইন্ডিয়া জোট যদি ক্ষমতায় আসেও, কংগ্রেস বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে আসতে পারবে না। তাতে সরকার পরিচালনায় তাদেরকে অন্য দলের উপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হবে। তাতে প্রশাসনে গতি থাকবে না।

অন্যদিকে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে নিশ্চিতভাবেই নরেন্দ্র মোদি আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট সংখ্যাগরিষ্টতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। এমন অস্পষ্ট-অনিশ্চিত অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে অবস্থান নিচ্ছেন। তাতে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটের পরে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেওয়ার পর থেকে বিজেপি উগ্র প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে হিন্দু ভোটারদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে বলে প্রচার করছে। তাতেও হাওয়া তাদের পক্ষে না আসায় এবার শেয়ারবাজারকে তারা অস্ত্র বানাচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে দেশটির শেয়ারবাজারে ধস নামবে। তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বেড়েছে বাজারের অস্থিরতা।

তবে গত এক সপ্তাহে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশসহ একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, ‘ইন্ডিয়া’ ক্ষমতায় এলে শেয়ার বাজারে ‘ধস নামবে’— এই কথা রটিয়ে বিজেপি আতঙ্ক তৈরির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে ফায়দা নিতে চাইছে। কংগ্রেসের দাবি, খোদ অমিত শাহ শেয়ার বাজারে লগ্নিকারীদের মধ্যে ‘ইন্ডিয়া’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন। আজ কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, আর্থিক বৃদ্ধি ও সকলের জন্য উন্নয়নের মাপকাঠিতে অতীতের কংগ্রেস সরকারের ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ অনেক ভাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *