শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

পুঁজিবাজারে মে মাসেই সূচক কমেছে ৩৩৩ পয়েন্ট

চলতি বছরের শুরুতে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দিলেও পর্যায়ক্রমে দরপতনের হার পরিলক্ষিত হয়েছে। চলতি মে মাসের ২০ কার্যদিবসে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৩৩ পয়েন্ট। তবে আলোচ্য মাসে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

ইবিএল সিকিউরিটিজের মাসিক পুঁজিবাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, গত এপ্রিল শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে। মে মাসে সূচকটি ৩৩৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২৫২ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত এপ্রিলে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের লেনদেন হয়েছে। মে মাসে তা বেড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এক বছর ধরেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ নিম্নমুখী। এর মধ্যে গত বছরের মে মাসে দৈনিক গড়ে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, জুনে ৭ কোটি ৬০ লাখ, জুলাইয়ে ৭ কোটি ২০ লাখ, আগস্টে ৪ কোটি, সেপ্টেম্বরে ৫ কোটি ৭০ লাখ, অক্টোবরে ৪ কোটি ২০ লাখ, নভেম্বরে ৩ কোটি ৯০ লাখ, ডিসেম্বরে ৪ কোটি ৯০ লাখ এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৬ কোটি ৫০ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ও মার্চে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক কড়াকড়ির কারণে মুদ্রাবাজারে ক্রমবর্ধমান সুদহার বাজারের দীর্ঘস্থায়ী দরপতন পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূলধনি আয়ের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের করারোপের খবর বিনিয়োগকারীদের হতাশা বাড়িয়েছে। ফলে মাসজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে লেনদেন বাড়লেও দরপতন কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের শেয়ারবাজার।

সূত্র মতে, মে মাসে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমেছে ৯০৫ কোটি ডলার। গত এপ্রিলে বাজার মূলধন ছিল ৬ হাজার ৪১০ কোটি ডলার, যা মে মাসে ৫ হাজার ৫০৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ মাসে জিডিপি ও বাজার মূলধনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৩ দশমিক ৪৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *