সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

পুঁজিবাজার নিয়ে বাজেট বক্তব্যে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

পুঁজিবাজার প্রেস.কম : মন্দাক্রান্ত পুঁজিবাজারে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বেশ কিছু কর সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে। এর মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভুত কোম্পানির কর হারের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানো, ব্রোকারহাউজের লেনদেনে উৎস কর ও মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়করের হার কমানো। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তার বাজেট বক্তব্যে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের আরও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথা বলেছেন।
সোমবার ২ জুন ২০২৫ তারিখে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সরকারের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির ফলে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পুনরায় গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তকরণ, বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য উৎসাহ প্রদান, বাজারে কারসাজি রুখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অনিয়মের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা এবং ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার থেকে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে করণীয় ঠিক করতে গত ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাজারের উন্নয়নে পাঁচটি নির্দেশনা দেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে: ১. দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেসব বিদেশি বা বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. গত ২০-৩০ বছরে দেশের বেসরকারি খাতে যেসব ভালো ও বড় বড় কোম্পানি গড়ে উঠেছে, সেগুলোকে প্রণোদনা দিয়ে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া। ৩. বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া। ৪. পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ। ৫. বড় বড় কোম্পানি যাতে ব্যাংকঋণ নেওয়ার বদলে শেয়ারবাজারে বন্ড বা শেয়ার ছেড়ে পুঁজি সংগ্রহে আগ্রহী হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
অর্থ উপদেষ্টার বাজেট বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনেকটা প্রতিফলিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *