বার্ষিক ভিত্তিতে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে
খাদ্যের দাম বাড়ায় স্বস্তি নেই। বাজারে মাছ-মাংসের পাশাপাশি শাক-সবজি, মুদি বাজার নিষিদ্ধ করতে হবে! সম্প্রতি খাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশের উপরে ছিল। গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৫৪ শতাংশে।
তবে গত সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির কোনো সুখবর না থাকলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। হেডলাইন মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৯.৯২ শতাংশ থেকে এই মাসে ৯.৬৩ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৫ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯.৯৮ শতাংশ। আর নগরীতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ছিল ৯.২৪ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯.৬৩ শতাংশ।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে দেশে হেডলাইন মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৯৪ শতাংশে, যা এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর জুন ও জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুন মাসে তা ৯.৭৪ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৯.৬৯ শতাংশ। তবে আগস্টে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। চলতি মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে দেশে হঠাৎ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। চলতি মাসে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতির এই হার ১১ বছর ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১২.৭৩ শতাংশে।
বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে এই হার ছিল ১২.৫৪। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি ১৭.১ শতাংশে নেমে এসেছে। গত জুলাইয়ে দেশে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরে, গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৫১ শতাংশ, যা শহরে ১২.০১ শতাংশ ছিল।
অন্যদিকে, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৭.৯৫ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৭.৮২ শতাংশে নেমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৭.৪২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে সামান্য কমে ৮.১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া, গত অর্থবছর ২০২২-২৩ এ গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০২ শতাংশ, যা বার্ষিক ভিত্তিতে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
