শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশের বাজারদর

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার আরও বাড়তে পারে-এমন প্রত্যাশাই এখন বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে সোনার দাম ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের পথে রয়েছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত সোনার দাম কমেছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। এছাড়া ২০২৪ সালের পর এটি বুলিয়নের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন এবং ২০১৩ সালের জুন প্রান্তিকের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার-এই তিনটি কারণ সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এ ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ।

ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতু কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই সময়ে তেলের দামও ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।

এডওয়ার্ড মেয়ার মনে করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সোনার  দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনো সময় দেশে সোনার দাম আবারও সমন্বয় করা হতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ ২৯ জুন স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাজুস। ওইদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়।

বর্তমানে ভ্যাটসহ দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায়।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই তিনটি ধাতুই মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের পথে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *