বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

বৈশ্বিক সুকুকের মার্কেট ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বিশ্বব্যাপী সুকুকের মার্কেট ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যার মধ্যে মালয়েশিয়া ৪০ শতাংশ, সৌদি আরব ২৮, ইন্দোনেশিয়া ১৩, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৬ ও তুরস্কের ৩ শতাংশ অংশগ্রহণ রয়েছে। সুকুক চলতি বছর ৯ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এছাড়া সুকুকের প্রায় ৭৫ শতাংশ স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন হয়েছে। ফিচ রেটিংসের বিশ্লেষণ অনুসারে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

অর্থনীতিবিদরা জানান, ‌বিশ্বব্যাপী একটি টেকসই বিনিয়োগের রূপ পেতে যাচ্ছে সুকুক। তারা সুকুক ব্যবসার উল্লম্ফনের পেছনে কয়েকটি মূল কারণকে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাজেট ঘাটতি পূরণ করা, বিনিয়োগের বিকল্প উৎস তৈরি, প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক জোগান, ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর, প্রথাগত ব্যাংকঋণের বিকল্প তৈরি এবং ঋণ মার্কেটকে উন্নত ও বৈচিত্র্যময় করা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিনিয়োগকে শক্তিশালী করেছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী ঋণ মার্কেটের কাঠামো তৈরি করতে সুকুক ইস্যু করছে। এছাড়া ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনা তাদের কৌশলগত লক্ষ্য।

ফিচ রেটিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইসলামিক ফাইন্যান্সের গ্লোবাল হেড বাশার আল নাতুর বলেন, ‘‌সুদহার বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক সুকুক মার্কেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সুদহার বাড়লে সুকুকের লভ্যাংশের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।’

বাশার আল নাতুর জানান, স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান সুদহারের প্রভাব ভিন্ন। বিশেষ করে অনেক ইসলামী ব্যাংকের কাছে প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে এবং এসব অর্থ তারা বিনিয়োগ করতে চায়। এ বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় এবং তারা সাধারণত সুকুকে বিনিয়োগ করে।

অর্থনীতিবিদরা জানান, বিশ্বব্যাপী সুকুক বাজারে ইউএই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকারী ও বিনিয়োগকারী। ইউএইর সুকুক মার্কেট নিয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দুটি দিক লক্ষ করা যায়। প্রথমটি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের (এএওআইএফআই) নীতিমালা। বিশেষত শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড নম্বর ৫৯। যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের আশঙ্কা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান এড়াতে দেশটি নিশ্চয়তা দেয়। একটি চুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকগুলোকে এ নীতিমালাগুলো মেনে চলতে বাধ্য করে ইউএই। কারণ ব্যাংক একই সঙ্গে সুকুকে বিনিয়োগকারী ও ব্যবস্থাপক। দ্বিতীয়টি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের নাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জে সুকুককে তালিকাভুক্ত করার শর্ত, যা ইসলামিক বন্ডের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী তালিকাভুক্তির গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত।

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সুকুক মার্কেট চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ হাজার ১৭০ কোটি ডলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *