মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার

ভারতের শেয়ারবাজারে বড় পতন, একদিনে কমল ৫ লাখ কোটি রুপি

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১ হাজার ১২৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৭২ হাজার ৭৭১ দশমিক ৭২ পয়েন্টে নেমেছে। এটি গত ছয় মাসের মধ্যে সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।

একই দিনে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) প্রধান সূচক নিফটি-৫০ কমেছে ৩৬০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দিন শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৮০ দশমিক ২৫ পয়েন্টে।

বাজারের এই বড় পতনে সোমবার এক দিনেই বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজারমূল্য কমে গেছে। এর আগে টানা সাত সপ্তাহের লেনদেনেও বাজারে দুর্বলতা অব্যাহত ছিল।

সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকগুলোতে বড় ধরনের বিক্রির চাপ দেখা যায়। শুধু বড় কোম্পানির শেয়ার নয়, মাঝারি ও ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

এদিন এনএসইতে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ছিল জিও ফাইন্যান্সিয়াল, টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং আদানি পোর্টসের শেয়ার। বিপরীতে দর বেড়েছে টেক মাহিন্দ্রা, ড. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ ও ইনফোসিসের।

বাজারের প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সূচক কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। টেলিকম খাতের সূচক কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, ভোগ্যপণ্য, আবাসন, বেসরকারি ব্যাংক, ধাতু এবং তেল ও গ্যাস খাতেও পতন হয়েছে।

সোমবার ১৯০টি শেয়ারের দাম ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আইআরবি ইনফ্রা, ইন্ডিয়া সিমেন্টস, ব্যাংক অব বরোদা, আদিত্য বিড়লা লাইফস্টাইল, টাটা কনজিউমার, অম্বুজা সিমেন্ট, টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকেলস, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও জেনারেল ইনস্যুরেন্স।

কেন এত বড় পতন

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকা। এতে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়লে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। ডলারের বিপরীতে রুপির দর আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, বিশেষ করে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের পতন বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *