মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও বিনিয়োগকারী-বান্ধব করতে নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এ লক্ষ্যে কমিশনের ১০২০তম সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধনী খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান মার্জিন ঋণ বিধিমালার বিভিন্ন শর্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ গ্রহণ জটিল হয়ে পড়েছিল। বাজারকে আরও সহজ ও কার্যকর করার পাশাপাশি পদ্ধতিগত ঝুঁকি কমাতে নতুন এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি ‘এ’ বা ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকলেই সেটি সরাসরি মার্জিন ঋণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আগে ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা পেতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশোধিত বিধিমালায় সেই শর্ত বাতিল করা হচ্ছে।
তবে ‘জেড’ ক্যাটাগরি, ওটিসি, এসএমই এবং স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানির শেয়ার আগের মতোই মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে।
সংশোধিত নীতিমালায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্জিন যোগ্যতা নির্ধারণে প্রচলিত মূল্য-আয় (পিই) অনুপাতের পরিবর্তে মূল্য-বই (পিবি) অনুপাত বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে পিবি রেশিও সর্বোচ্চ ৩-এর মধ্যে থাকতে হবে।
বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার জন্য পিবি রেশিও সর্বোচ্চ ১ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ পিই রেশিওর বিদ্যমান সীমা বহাল রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে গত চার প্রান্তিকের (ট্রেইলিং) আয় বিবেচনায় পিই রেশিও নির্ধারণ করা হলেও নতুন বিধিমালায় কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) অনুযায়ী পিই রেশিও হিসাব করা হবে।
সংশোধিত নীতিমালায় মার্জিন ঋণ গ্রহণে ছাত্র, গৃহিণী বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা বা অলিখিত সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে যেকোনো বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।
এ ছাড়া বছরে গড়ে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা হওয়ার বাধ্যবাধকতাও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সামগ্রিক বাজারের পিই রেশিও ২০ অতিক্রম করলে মার্জিন রেশিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১:১ থেকে কমে ১:০.৫ হয়ে যায়। নতুন নীতিমালায় এই ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সব সময় মার্জিন রেশিও ১:১ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, সংশোধিত মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বিদ্যমান প্রায়োগিক জটিলতা দূর করে বিধানগুলো আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। এর ফলে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও বিনিয়োগকারী-বান্ধব হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে।
তিনি জানান, সংশোধিত খসড়া খুব শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে নীতিমালাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হবে।
