মিউচ্যুয়াল ফান্ডে স্বচ্ছতা ফেরাতে বিএসইসির নতুন উদ্যোগ
শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে তথ্য প্রকাশের ফরম্যাট, মানদণ্ড এবং নির্দেশিকা হালনাগাদ করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। নতুন ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫’-এর সঙ্গে সংগতি রেখে এই খাতের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কমিশনের পাঁচজন দক্ষ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিএসইসির জারি করা সাম্প্রতিক এক আদেশের মাধ্যমে এই বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সুলতানা পারভীন, মো. আতিকুল্লাহ খান, মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. সাগর ইসলাম।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ফান্ডের সম্পদ মূল্যায়ন ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া আরও সহজ হবে এবং পুরো খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতেই এই সংস্কারের পথে হাঁটছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, এই কমিটিকে আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পর্যালোচিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নতুন বিধিমালার আলোকে তথ্য প্রকাশের কাঠামো এবং নীতিমালাগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রস্তাবনা তৈরি করবে এই কমিটি।
কমিটির কার্যপরিধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ট্রাস্ট ডিড তৈরি, ত্রৈমাসিক রিপোর্টিং ও পোর্টফোলিও স্টেটমেন্টের নতুন ফরম্যাট প্রণয়ন এবং ফান্ডের মার্জার বা কনভার্সন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা। এর ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন ও শক্তিশালী কাঠামো তৈরি হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিসক্লোজার বা তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুই-ই বাড়বে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে বিএসইসি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, নতুন এই কমিটি গঠন সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, নতুন বিধিমালায় মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের একটি চমৎকার বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য তার নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তবে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থে ট্রাস্টি ইজিএম ডাকবে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ফান্ডটি রূপান্তর বা অবসায়ন করা হবে। এই সম্পূর্ণ রূপান্তর প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতেই নতুন নীতিমালা প্রয়োজন, যা এই কমিটি প্রস্তুত করবে।
