শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ব্যাংক

মূলধন শক্তিশালী করতে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড আনছে মেঘনা ব্যাংক

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক :   মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি।

সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে।

ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বন্ডটির কুপন রেট পরিবর্তনশীল। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য কুপন রেট বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ, যার মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯.০৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত মার্জিন তিন শতাংশ।

রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে ভবিষ্যতে কুপন রেটও পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট পাচ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রযোজ্য আইন এবং ইস্যুর শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবেন। বন্ডের কুপন আয় প্রতি ছয় মাস অন্তর পরিশোধের কথা রয়েছে। তৃতীয় বছর শেষে মূলধন পরিশোধ শুরু হবে।

এরপর মেয়াদের শেষ পাঁচ বছরে প্রতি বছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা প্রযোজ্য নিয়ম ও বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পেতে পারেন।

তবে তালিকাভুক্তি থাকলেই নিশ্চিতভাবে সহজে বিক্রি করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; প্রকৃত তারল্য বাজারের চাহিদা ও লেনদেনের ওপর নির্ভর করবে।

সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধনের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে সহায়তা করে। মেঘনা ব্যাংকের মতে, এ উদ্যোগ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে শিল্প, উৎপাদনশীল খাত ও ব্যবসায় অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

ইস্যু-সংক্রান্ত তথ্যে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রযোজ্য আয়কর আইন অনুযায়ী কর রেয়াতের সুযোগ এবং আবগারি শুল্ক না থাকার সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সুবিধা গ্রহণের যোগ্যতা ও প্রযোজ্যতা সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি এবং বন্ডের চূড়ান্ত শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

বিনিয়োগের আগে অনুমোদিত প্রসপেক্টাস ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি।

বন্ডটির কুপন রেট প্রচলিত কিছু আমানত পণ্যের তুলনায় বেশি হতে পারে। তবে পরিবর্তনশীল কুপন রেট, ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকি, মেয়াদ এবং বাজারে বিক্রির সুযোগ বিবেচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

উচ্চ কুপন রেট ভবিষ্যতে একই হারে আয় বা মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা দেয় না।

মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের একটি উদ্যোগ। বিনিয়োগকারীদের জন্য এর সম্ভাব্য আয়, মূলধন পরিশোধের সময়সূচি, কর সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *