বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ দাবি করেছে (বিএসইসি)

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এবং অবসায়নের পথে থাকা অবৈজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ দাবি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিএসইসি’র একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একগুচ্ছ সুপারিশ সম্বলিত একটি চিঠি হস্তান্তর করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে তালিকাভুক্তি বাতিল বা ডিলিস্টিং করা যাবে না।
প্রাথমিকভাবে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পরিকল্পনা থাকলেও শুনানির পর প্রাইম ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি-কে আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং—এই ৬টি প্রতিষ্ঠান দ্রুতই লিকুইডেশন বা অবসায়নের প্রক্রিয়ায় পড়ছে। আভিভা ফাইন্যান্স বাদে এই তালিকার বাকি সবকটি প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। বিএসইসি’র মুখপাত্র মো. আবুল কালাম চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, প্রচলিত লিকুইডেশন আইনের কঠোর প্রয়োগ এখানে কাম্য নয়। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ মূল্য (NAV) নেতিবাচক হলে লিকুইডেশনের পর আমানতকারীরা কিছুই পান না। কিন্তু এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বিএসইসি’র যুক্তি হলো, আমানতকারীরা টাকা পেলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদেরও বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। এজন্য ১০ দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, লিকুইডেশনের আগেই যেন প্রতিটি শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রদেয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
বিএসইসি সুপারিশ করেছে যে, যারা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত সেই স্পন্সর-পরিচালকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না; কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই এই সুবিধা পাবেন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হিসেবে শেয়ারের ফেস ভ্যালু (১০ টাকা) অথবা বর্তমান বাজার দর—যেটি বেশি, সেটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো লিকুইডেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ডিএসই-তে ট্রেড বাতিলের বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান এবং সময়মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিএসইসি সতর্ক করে বলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ না দেয়, তবে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজার বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *