রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
বীমা

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক: সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়েছে ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ছিল ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। একই সঙ্গে চলতি বছরের নয় মাসে কোম্পানিটির নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কোম্পানিটির ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২২ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

আয় ও ব্যয়ের হিসাব

আর্থিক বিবরণীর নগদ প্রবাহের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রিমিয়াম বাবদ নগদ আদায় হয়েছে ৬৪১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অন্যান্য আয় থেকে এসেছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে পরিচালন কার্যক্রমে নগদ প্রাপ্তি হয়েছে ৬৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, এ সময়ে বিমা দাবি পরিশোধ বাবদ নগদ ব্যয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্যবস্থাপনা ব্যয়, কমিশন, পুনর্বিমা ও অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ৩০৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কর পরিশোধ করা হয়েছে ১৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে উল্লিখিত খাতগুলোতে নগদ পরিশোধ হয়েছে ৬৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ফলে পরিচালন কার্যক্রমে নগদ প্রাপ্তির তুলনায় নগদ পরিশোধ বেশি হওয়ায় নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে প্রিমিয়াম বাবদ নগদ আদায় ছিল ৬০৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য আয় ছিল ৮২ লাখ টাকা। একই সময়ে বিমা দাবি পরিশোধে ২৬৭ কোটি ১১ লাখ টাকা, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, কমিশন, পুনর্বিমা ও অন্যান্য খাতে ২৯২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং কর বাবদ ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ইতিবাচক ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

কমেছে নগদ ও সমতুল্য সম্পদ

আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির নগদ, ব্যাংক ও অন্যান্য স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে নগদ ও সমতুল্য সম্পদ কমেছে প্রায় ৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এ সময়ে বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ২৩ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং অর্থায়ন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিল। ফলে পরিচালন, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন—তিনটি কার্যক্রম মিলিয়ে নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদের নিট হ্রাস হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এ সূচক ছিল ঋণাত্মক ৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ইতিবাচক ৭ টাকা ৯৫ পয়সা।

বেড়েছে জীবনবিমা তহবিল

নগদ প্রবাহে নেতিবাচক চিত্রের বিপরীতে কোম্পানিটির জীবনবিমা তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে এ তহবিল দাঁড়িয়েছে ৯২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তহবিলটির পরিমাণ ছিল ৮৯৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে নয় মাসে জীবনবিমা তহবিল বেড়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ১ হাজার ৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ কমেছে প্রায় ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের শেষ দিনে ছিল ৬২৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৫১ কোটি ৯ লাখ টাকা।

দাবি পরিশোধে ব্যয়

সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে মৃত্যুজনিত দাবি, পলিসির মেয়াদপূর্তি, অক্ষমতা, সমর্পণ ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ জীবনবিমা আয় হিসাবে দাবি-সংক্রান্ত ব্যয় ছিল প্রায় ৩৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নগদ প্রবাহের বিবরণীতে দাবি পরিশোধ বাবদ নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুটি অঙ্কের হিসাবের ভিত্তি আলাদা হওয়ায় এগুলোকে একই খাতের সমান অঙ্ক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

সামগ্রিকভাবে, কোম্পানিটির জীবনবিমা তহবিল বাড়লেও পরিচালন কার্যক্রমে নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়েছে এবং নগদ ও সমতুল্য সম্পদের পরিমাণ কমেছে। তবে শুধু নগদ প্রবাহের এই তথ্য দিয়ে কোম্পানির নিট মুনাফা বা সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *