বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এক বৃদ্ধ বিনিয়োগকারীর খোলা চিঠি ‘

পুঁজিবাজার প্রেস.কম : -মাননীয় ইউনুস স্যার, আমি করিম উদ্দিন। বয়স এখন আশির কাছাকাছি—চোখে কম দেখি, হাঁটতে লাঠির ভরসা লাগে। এক সময় ক্লাসে দাঁড়িয়ে কোমল মুখগুলোর মাঝে স্বপ্ন বুনে দিতাম—তাদের শেখাতাম, সততা ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আজ আমি নিজেই জীবনের এমন এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে, যেখানে কেউ পাশে নেই, শুধু কিছু ভেঙে পড়া স্বপ্ন আর ভাঙা সঞ্চয়।

বহু বছর শিক্ষকতা করে সামান্য যা জমানো ছিল, সেটা ভরসা করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলাম। ভেবেছিলাম, শেষ বয়সে ন্যূনতম একটা সহায়তা হবে—স্ত্রীর ওষুধ, নাতির স্কুল ফি, বাড়ির পুরনো চালা মেরামত—এটাই তো ছিল আমার স্বপ্ন।

কিন্তু এখন প্রতিদিন সূচকের পতন মানে আমার বুকের ভেতরটা কেমন ধ্বসে পড়ে। এমন সব কোম্পানির শেয়ার কেনার পরামর্শ পেয়েছিলাম যেগুলোকে “ভাল কোম্পানি” বলা হতো। অথচ এখন সেগুলোর দাম পড়ে গেছে যেন মাটির নিচে। দিনের পর দিন শুধু লোকসান, অথচ কেন—তা কেউ বলে না।

স্যার,

আমি তো কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বাজারে আসিনি। আমার মতো অনেকেই এসেছিলেন সৎভাবে, ছোট্ট একটা আশ্রয় খুঁজে। কিন্তু এখন মনে হয়, এই বাজারটা কিছু মানুষের ব্যবসার জায়গা, আমাদের মতো সাধারণ মানুষ সেখানে শুধু শিকার। কেউ চুরি করে, কেউ লুট করে, আর আমরা শুধু দেখে যাই।

আপনার নাম যখন শুনি, তখন বিশ্বাস হয়—আছে এখনো একজন যার কাছে চিঠি লেখা যায়, যাকে বলা যায়, “স্যার, দয়া করে আমাদের কথাও একটু শুনুন।”

স্যার, আপনি তো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আপনি তো Nobel পুরস্কার পেয়েছেন—আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন আমাদের মতো নিঃস্ব মানুষের কান্না।

শেয়ারবাজারে আজ শুধু টাকা হারাইনি—হারিয়েছি সাহস, আস্থা, ভবিষ্যৎ আর শেষ বয়সের সামান্য আশ্রয়টুকু। কেউ শিক্ষকের সম্মান রাখেনি, কেউ বৃদ্ধ বয়সের দুর্বলতাটা বোঝেনি।

আমার ছেলে এখন চাকরির খোঁজে দিশেহারা, আর আমি হিসেব করি—মাসের কোন ওষুধটা কাটব, কোনটা খাব।

আপনার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ, দয়া করে এই শেয়ারবাজারে সৎ মানুষের জায়গা ফিরিয়ে দিন। অসাধু চক্রদের থামান। একটি স্বচ্ছ কমিশন গঠন করুন, যাতে আমরা আবার ভরসা করতে পারি। যেন আমাদের মতো মানুষগুলো বুঝতে পারে—দেশে এখনো সুবিচার আছে।

আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি,

শুধু শেষবারের মতো বলতে চাই—স্যার, আমাদের কথাও একটু ভাবুন।

বিনীত,

করিম উদ্দিন

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নরসিংদী, বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *