সরকার পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে ‘
পুঁজিবাজার প্রেস.কম : সরকার পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে ‘দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মধ্যে থাকা দেশের পুঁজিবাজারে কয়েকদিন ধরে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ এখনও লোকসানে রয়েছেন। বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে বাজারে নিম্নমুখী ধারা থাকায় অনেক শেয়ারের দাম এখনও অবমূল্যায়িত। এমনকি সার্বিক বাজারকেও অবমূল্যায়িত ধরা হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৪১ পয়েন্টে।
বিনিয়োগ ঝুঁকি নির্ধারণে পিই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে ১০–১৫ পিইকে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ধরা হয়। কোনো কোম্পানির পিই ১০-এর নিচে হলে সেটিকে অবমূল্যায়িত এবং বিনিয়োগযোগ্য ধরা হয়। সেই হিসেবে বর্তমান বাজারে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে বাজারে স্থবিরতা থাকলেও সম্প্রতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা যদি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে ভালো মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসই’র বর্তমান পিই ৯ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। এর নিচে রয়েছে তিনটি খাত—জ্বালানি, ব্যাংক ও সেবা। এছাড়া আরও একটি খাত রয়েছে ১০-এর নিচে।
এরমধ্যে জ্বালানি খাত ৫.৭৪, ব্যাংক খাত ৫.৮৫, সেবা খাত ৯.০৯ এবং টেক্সটাইল খাত ৯.৬৭।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি পিই রয়েছে সিরামিক খাতে, যা ৫৪.৫৬ পয়েন্ট। এরপর রয়েছে পাট খাত (২৪.২১)। এছাড়া বিভিন্ন খাতের পিই অনুপাত হলো- সিমেন্ট ১০.০৮, ওষুধ ১০.৩২, প্রকৌশল ১০.৩৮, চামড়া ১০.৬৩, আর্থিক ১০.৯৭, বীমা ১১.৪০, খাদ্য ১৫.৩৫, আইটি ১৫.৪৯, বিবিধ ১৫.৮৯, ভ্রমণ ও অবকাশ ১৬.৯৮, টেলিকম ১৭.৩২, মিউচুয়াল ফান্ড ১৮.২৭ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতের পিই ১৮.৯৬।
ডিএসই পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, “পিই অনুপাত বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলেও একমাত্র নয়। পিই ১০-এর নিচে থাকলে সাধারণত শেয়ারটি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত ধরা হয়। তবে কোম্পানির অন্যান্য মৌলিক দিকও বিবেচনায় রাখতে হবে।”
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। নির্বাচনী অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। আশা করছি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
