মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের শ্রমিক তহবিল বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদ সংযোজন করেছেন নিরীক্ষক। যদিও নিরীক্ষা মতামতে কোনো ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়নি, তবুও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও আইনগত বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটির নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ম্যানেজিং পার্টনার জাকের আহমেদ, এফসিএ। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন নোটের ভিত্তিতে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক বিবরণীর নোট-৩.১৪(খ)-এ ‘ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড ও ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৫ অধ্যায়ের ২৩৪ ধারা, যা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়, সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য শ্রমিক অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন বাধ্যতামূলক। তবে এ বিধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে কতটুকু প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস ডিভিশন (বিএফআইডি) শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনও বীমা খাতকে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তহবিলের অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।
এছাড়া আর্থিক বিবরণীর নোট-৪০.০০-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২০ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোম্পানিটির কাছে ৪২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৩ টাকা দাবি করেছে। এ দাবির বিপরীতে কোম্পানি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করেছে।
অন্যদিকে নোট-০৮.০০ ও নোট-১৯.০০-এ বীমা ব্যবসা পরিচালনাকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাওনা ও দায়ের হিসাবের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি)-এর সঙ্গে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের লেনদেনের হিসাব এখনো সমন্বয় হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিরীক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে। তবে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কারণে নিরীক্ষা মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
