মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬
আজকের সংবাদ

বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতি প্রিমিয়ার ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। ব্যাংকটির নিরীক্ষক প্রতিবেদনে “এমফ্যাসিস অব ম্যাটার” ও “অদার ম্যাটার” অনুচ্ছেদে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৩৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ৭ হাজার ২৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ১ হাজার ১৯৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, অশ্রেণীকৃত ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ১১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ২ হাজার ৬৮৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৩৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে আরও ২ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ১ হাজার ৬২৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে মাত্র ৪০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে ব্যাংকটির ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটি একক আর্থিক প্রতিবেদনে এ ক্ষতির বিপরীতে কোনো ইমপেয়ারমেন্ট লস হিসাবভুক্ত করেনি।
এছাড়া গ্র্যাচুইটি ফান্ড, অফ-ব্যালেন্স শিট আইটেম এবং শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতেও যথাক্রমে ১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ৯৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতির তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৯৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক চিঠির মাধ্যমে এ ঘাটতি সমন্বয় না করেই ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার অনুমতি দিয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বেজেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির প্রয়োজনীয় মূলধন ছিল ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যাংকের রেকর্ডকৃত মূলধন ঋণাত্মক ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত মূলধন ঘাটতি দাঁড়াতে পারত ৯ হাজার ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
একইসঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর) ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকটি প্রায় ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ সিআরএআর দেখিয়েছে। তবে পুরো প্রভিশন ঘাটতি বিবেচনায় নিলে সিআরএআর ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে যেত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে “অদার ম্যাটার” অনুচ্ছেদে নিরীক্ষক উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস-২৪ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন ও সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কেবল নোট ৩.১০-এ উল্লিখিত তথ্য ছাড়া অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য প্রকাশ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *