আস্থার সংকটে শেয়ারবাজার, ডিএসইএক্স কমেছে ৩৯ পয়েন্ট
সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর)ও দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ দুটি সূচক কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর হ্রাস পেয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সময় গড়ানোর সঙ্গে শেয়ারবাজারে দরপতনের মাত্রা আরও বাড়ছে। ধারাবাহিক পতনের কারণে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। ফলে লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কমে আসছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারের সূচক ও টাকার অংকে লেনদেনের ওপর।
তাদের মতে, বাজারে একের পর এক দরপতন হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। দরপতন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এতে নতুন কমিশনের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হচ্ছে না।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন ঠেকিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান কমিশন বাজারের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিবর্তে শুধু সংস্কার ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের মতে, বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল করতে হলে প্রথমেই ধারাবাহিক দরপতনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর কারণ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেই শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৭৯ দশমিক ০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬২ দশমিক ৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।
সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।
সিএসইতে সোমবার মোট ১৮৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১৩৬টির কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭১৫ দশমিক ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিনও সিএএসপিআই সূচক ১৫০ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমেছিল।
