পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে কিছু টাউট বাটপার: তথ্যমন্ত্রী
কিছু টাউট পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ‘টেকসই অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ সেমিনারটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির আকার বড় না হলে মুদ্রাবাজারের প্রবৃদ্ধি হতো না। মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হবে। অর্থনীতির আকার বড় না হলে টাকার বাজার বাড়ত না। আমাদের পুঁজিবাজার বেড়েছে। এই দুটি বাজারে আমাদের আরও কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির আকার যেভাবে বেড়েছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পুঁজিবাজার সেভাবে বাড়েনি। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা নেই। পুঁজিবাজারে কিছু টাউট আছে, যারা পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। বাজারের উন্নয়নে বাধা। আদালতে ভুয়া আইনজীবীদের ধরে রেখেছে আইনজীবী সমিতি। অনেক সময় ভুয়া ডাক্তারও ধরা পড়ে। একইভাবে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার থেকে টাউটদের বিতাড়িত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জিডিপি যত এগিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি সবার আগ্রহের পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সম্পর্ক উন্নয়ন, অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে মুখিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোনালী যুগ। করোনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অর্থনীতিকে মন্থর করে দিয়েছে। এখন নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা টান আছে। এখনও একটি উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যত দেখুন।
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে পোশাক শিল্পে ৪২ শতাংশ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। ধান কাটার কেউ নেই। বরং যে অর্থনৈতিক অবস্থা দেখছি, তাতে ভবিষ্যতে আমাদের দক্ষ লোকের অভাব হবে। তাই এখন বিনিয়োগে মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনো কোনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। আমাদের সামনের লক্ষ্য হল এসডিজি, ২০৪১ সাল এবং ডেল্টা প্ল্যান। আমরা এসবেও ব্যর্থ হতে চাই না। তবে এর জন্য প্রয়োজন ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন। এজন্য মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হতে পারে 450 বিলিয়ন ডলার। বাকি বিনিয়োগ বিদেশ থেকে আনতে হবে। তাই আমাদের এখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ দরকার।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান হাফিজ মোহাম্মদ হাসান বাবু, বিএমবিএর সভাপতি অধ্যাপক ড. ছায়েদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ মতিন প্রমুখ।
