বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ও সুশাসন ঘাটতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ (বিএসইসি)।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ও সুশাসন ঘাটতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেকশন থেকে এ-সংক্রান্ত তদন্ত আদেশ জারি করা হয়।
বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের স্বার্থে ডিএসইর সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করতে স্টক এক্সচেঞ্জটির নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালনে ঘাটতি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যবসা বা শেয়ার লেনদেনে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন।
তদন্তের আওতায় ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার সদস্য নম্বর ১৪১-এর উত্থাপিত অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং অনিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া।
এ ছাড়া ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও), জেনারেল ম্যানেজারসহ (জিএম) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিকিউরিটিজে লেনদেনে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুঁজিবাজারের অন্য কোনো ব্যবসায় সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, বিশেষ করে আস্থাভিত্তিক বা ফিডিউশিয়ারি সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তে ডিএসইর রিসোর্স অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি (আরএসি), রিসোর্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন (আরএডি), নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক পদ, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের বিষয়ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী ডিএসইর ব্যবস্থাপনা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কি না, তাও যাচাই করা হবে।
তদন্তের জন্য বিএসইসির তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, বিএসইসির পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।
আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তাদের আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় উপযুক্ত মনে হলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর ১৭ বিধির ক্ষমতাবলে এ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *