ব্যাংক হিসাব খুলতে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে এনবিআর
প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুধু তাই নয়, বিআইএনের বিপরীতে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলও করতে হবে। লক্ষ্য কর জাল বৃদ্ধি করা।
আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের করের আওতায় আনতে এমন বিধান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে৷ এই নীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে।’ছাড়া ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া যায় না। নিবন্ধন নিয়ে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যবাধকতার রয়েছে।
বর্তমানে এনবিআরের অধীন সারা দেশে ভ্যাট কমিশনারেট অফিস রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় পাঁচটি। রাজস্ব আদায় বাড়াতে নিবন্ধিত সব ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আগে প্রচলিত প্রথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হতো। যার অঙ্ক বা ডিজিট ছিল ১১। তিন বছর আগে অনলাইনে যে ভ্যাট নিবন্ধন চালু করা হয় তার ডিজিট ৯। এখন ৯ ডিজিটের নাম্বারকে বলা হয় বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নাম্বার বা ই-বিআইএন। মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হলে ৯ ডিজিটের ই-বিআইএন অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়। তা না হলে রিটার্ন গ্রহণ করা হয় না। রিটার্নের ওপর ভিত্তি করেই ভ্যাট আদায় করা হয়। রিটার্নে প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বা লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
নতুন ভ্যাট আইনে কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার কম হলে ভ্যাট দিতে হয় না। তাই তাদের নিবন্ধনও নেওয়ার দরকার নেই। তবে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা থেকে তিন কোটি টাকা হলে ৪ শতাংশ টার্নওভার কর দিতে হয়। বাকিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ভ্যাটহার প্রযোজ্য। টার্নওভার কর ও নিয়মিত ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ইবিআইএন নিতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান ইবিআইএন না নিলে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
