শেয়ারবাজারের পতনে আতঙ্ক নয়, সুযোগ দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা
শেয়ারবাজারে দরপতন মানেই শুধু লোকসান নয়, বরং সঠিক কৌশলে এটিই হতে পারে কম দামে ভালো শেয়ার সংগ্রহের সুযোগ—এমনটাই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে পতনের সময় আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে মৌলভিত্তি ভালো কোম্পানির শেয়ার কম দামে কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে পরবর্তী উত্থানে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উচ্চ দরে বিতর্কিত বা দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনলে দরপতনের সময় লোকসানের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ভালো কোম্পানির শেয়ার যদি তুলনামূলক কম দামে কেনা যায় এবং সঠিক সময় পর্যন্ত ধরে রাখা যায়, তাহলে বাজারের পতনও বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, পতনের বাজারে কম দামে ভালো শেয়ার কেনা এবং উত্থানের বাজারে তা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেওয়া শেয়ার লেনদেনের একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। একইভাবে, বাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী থাকে তখন লাভে থাকা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নিশ্চিত করাও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পতনকে আতঙ্ক নয়, সুযোগ হিসেবে দেখার পরামর্শ
সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে যে দরপতন দেখা যাচ্ছে, সেটিকে শুধু নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে ইতিবাচক দিক থেকেও বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে যেমন টানা উত্থান অব্যাহত থাকে না, তেমনি কোনো দরপতনও স্থায়ী হয় না। পতনের পর বাজারে আবারও উত্থান দেখা দিতে পারে।
এ কারণে দরপতনের সময় আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে ভালো কোম্পানির শেয়ার ধরে রাখা এবং সুযোগ অনুযায়ী কম দামে ভালো শেয়ার কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। তাদের মতে, আজকের দরপতনে বেশ কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের জন্য তুলনামূলক অনুকূল অবস্থানে এসেছে। যারা এসব শেয়ার সংগ্রহ করেছেন, তারা শিগগিরই সেখান থেকে ভালো মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দরপতনের সময় লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে ধৈর্য ধরে রাখা গেলে পুঁজি সুরক্ষিত রাখার সুযোগ থাকে। তাই বাজারের সাময়িক পতনে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক উত্থান যেমন বিনিয়োগকারীদের মেনে নিতে হয়, তেমনি বাজারের স্বাভাবিক সংশোধন বা পতনও মেনে নিতে হবে।
ডিভিডেন্ড মৌসুমেও ভালো শেয়ারে নজর
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পতনের বাজারের শুধু নেতিবাচক দিক নেই; এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ইতোমধ্যে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর অনেকেই তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো কোম্পানির শেয়ার ধরে রাখার পাশাপাশি তুলনামূলক আকর্ষণীয় দরে আরও ভালো শেয়ার সংগ্রহের সুযোগ কাজে লাগানো যেতে পারে।
তাদের মতে, বিনিয়োগকারীদের বাজারের দৈনিক ওঠানামায় অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সপ্তাহের প্রথম দিনেই সূচকের বড় পতন
এদিকে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেও পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
দিনের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দরপতনের মধ্যেই বেশ কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের অনুকূল অবস্থানে এসেছে। ফলে আতঙ্কে বিক্রি না করে সুযোগ বুঝে ভালো শেয়ারে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডিএসইর তিন সূচকই কমেছে
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১২ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৩ দশমিক ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৭৭টির কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেন কমেছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা
ডিএসইতে রোববার মোট প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
সিএসইতেও সূচকের পতন, তবে লেনদেন বেড়েছে
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার মোট ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
দিনটিতে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সিএএসপিআই ৪১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল।
