বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
আজকের সংবাদ

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে থাকা বিনিয়োগকারীরা

দেশের শেয়ারবাজার এক ভয়াবহ দরপতনের সাক্ষী হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে থাকা বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাপ্তাহিক দরপতনের তালিকায় শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টিই ছিল অত্যন্ত দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ গ্রুপের।
সাপ্তাহিক এই ধসের চিত্র অনুযায়ী, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং—এই তিনটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শীর্ষ পতনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার দর ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩০.৫৬ শতাংশ কমে মাত্র ২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ১০ পয়সা করে হ্রাস পেয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যখন মূল ধারার ভালো শেয়ারের দাম কমে, তখন ফাটকাবাজরা ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে সক্রিয় হন এবং সেগুলোর দাম অস্বাভাবিক বাড়ে। তবে গত সপ্তাহে সেই চিরচেনা চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া চালু থাকবে—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এমন কঠোর বার্তার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই খাতের শেয়ার দরের ওপর।
পতনের এই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের বন্ড, যার দর কমেছে ২৭.২৫ শতাংশ। তালিকায় এর পরেই থাকা প্রিমিয়ার লিজিং ২৭.০৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং (১৮.১৮%), ফিনিক্স ফাইন্যান্স (১৮%), ফ্যামিলি টেক্স (১৬.২২%), ফার্স্ট ফাইন্যান্স (১৫.৫২%) এবং রিজেন্ট টেক্সটাইল ১৫.২২ শতাংশ দর হারিয়েছে। এই কোম্পানিগুলোর বাজার দর এখন তাদের অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে।
চলতি অর্থবছরের এই সময়ে বাজারের এমন নাজুক পরিস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন হলে বিনিয়োগের ক্যাশ বা নগদ অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের ভয়ে এবং আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের জটিলতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোকসান মেনে নিয়েই বাজার থেকে প্রস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *