রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার

সেপ্টেম্বরে বিদেশিদের শেয়ার কেনা বেড়েছে, নিট বিনিয়োগ ৭০ কোটি

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণসংস্থার দৃশ্যমান সংস্কার, ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী সংস্থা ‘এমএসসিআই’ (এমএসসিআই)-এর নিয়মিত পর্যালোচনায় ফেরার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ফের আস্থা পেতে শুরু করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘদিনের অর্থ প্রত্যাহার ও মন্দা ভাব কাটিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে শেয়ার বিক্রির চেয়ে কেনার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বহুজাতিক ও বিদেশি পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের মধ্যে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন, যার বিপরীতে বিক্রি করেছেন প্রায় ১৮০ কোটি টাকার শেয়ার। ফলে সেপ্টেম্বর মাসেই বাজারে তাদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মোট ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ কার্যদিবসেই বিদেশিদের বিক্রির চেয়ে ক্রয়ের পরিমাণ বেশি ছিল, যা বাজারের সার্বিক আস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

যেসব কারণে ফিরছে বিদেশিদের আস্থা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু ইতিবাচক ও নমনীয় নীতিমালার কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ সুগম হয়েছে:

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার ও আইপিও নিয়ম সংস্কার: বিএসইসি ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ভালো মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন ও বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে। সেই সাথে মার্জিন রুলস সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমএসসিআই-এর নিয়মিত পর্যালোচনায় ফেরা: বিশ্বখ্যাত ইনডেক্স প্রোভাইডার এমএসসিআই ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে তারা বাংলাদেশ ইনডেক্সের জন্য তাদের নিয়মিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করবে। ২০২৩ সালে ফ্লোর প্রাইসের জটিলতায় বাংলাদেশকে ‘বিশেষ নজরদারি’ -তে রাখা হয়েছিল, যা থেকে বের হওয়াকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

মূলধন ফেরানোর নিয়ম শিথিল

অতীতে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির টাকা বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন লাগত, বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত করেছে। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে ব্যাংকগুলোকেই সরাসরি কর কেটে টাকা স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ বহুলাংশে কমিয়েছে।

বর্তমান বাজার চিত্র ও বিদেশিদের পোর্টফোলিও

ডিএসইর তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে বিদেশিদের লেনদেন সর্বনিম্ন ৭৩.৯২ কোটি টাকায় নেমে গিয়েছিল, যা জুন ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ৫৪০ কোটি ও ৫২৩ কোটি টাকায় উঠে আসে। আগস্টে কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি টাকা হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশিদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টি কোম্পানিতে বিদেশিদের শেয়ারধারণ রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকে (প্রায় ৩৫%), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে (২৫%-এর বেশি)। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রেনাটা লিমিটেডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি শেয়ার রয়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১,৯৩৭টিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *