শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬
আজকের সংবাদ

ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সব অর্থ ফেরত দিলেও তাদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। তবে সেই বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই বিল পাস হওয়ায়, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মালিকানায় ফিরতে আগের শেয়ারহোল্ডারদের আর বাধা রইল না। একই সঙ্গে ফেরার পথ উন্মুক্ত হলো এস আলম ও নাসা গ্রুপের। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের বেশির ভাগ ছিল এই দুই গ্রুপের হাতে।
২০২৫ সালে জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে এই আইন পাস করা হয়। নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো তফসিলি ব্যাংক রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় গেলে তার তালিকাভুক্তির আগের শেয়ারধারক কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পুনরায় ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্টদের একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে—তারা সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেবে, নতুন মূলধন জোগান এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ করে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করবে এবং সব আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় পরিশোধ করবে। এছাড়া কর, রাজস্ব, ক্ষতিপূরণসহ সব আর্থিক দায় শোধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং ব্যাংকের সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনাও থাকতে হবে।উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে।
অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বড় অংশই বিলে পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক, সরকারি সহায়তা, রেজোল্যুশন তহবিল, অবসায়ন এবং দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *