শেয়ার কারসাজি-ব্যাংক লুটের কারিগর এনআরবিসি ব্যাংকের তমাল-আদনান
গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের ভগ্নিপতি মেজর (অবঃ) আহসান হাবিবকে এনআরবিসি ব্যাংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকিং পেশায় অভিজ্ঞতাহীন এই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগের ৭ মাস পরেই ব্যাংকটির কোম্পানি সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এমনকি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একবছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশেষ বিবেচনায় তার চাকরি স্থায়ী করা হয়। একই সঙ্গে তাকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মূলত গভর্নরকে বশীকরণের মাধ্যমে তমাল-আদনান চক্রের সব অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়াই এই নিয়োগের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। গভর্নরের ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার কারণে এনআরবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি এবং গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাংকের এফআইসিএডির পর্ষদ ভাঙ্গার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
জানা যায়, এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মে পদে পদে জড়িত ছিলেন ব্যাংক ও ব্যবস্থাপনার এই দুই চেয়ারম্যান। পারভেজ তমালের ব্যবসায়িক অংশীদার শফিকুল আলমের মালিকানাধীন রিলায়েবল বিল্ডার্সের অনুকূলে এনআরবিসি ব্যাংকের হাতিরপুল শাখার গ্রাহক হিসেবে মাত্র ৩ কোটি টাকা জামানতের বিপরীতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেয় এই চক্রটি। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনের নীতিমালা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া একই শাখা থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজকে ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিনিয়োগের নাম করে নেওয়া এ ঋণের মাধ্যমে বিপিএলে ক্রিকেট টিম ক্রয় করেছে ফরচুন বরিশাল। সেখানে আবার বেনামে শেয়ার ধারণ করেছে পারভেজ তমাল। এর মাধ্যমে শেয়ার কারসাজি এবং রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার করেছে এনআরবিসির বর্তমান চেয়ারম্যান।
এদিকে এসকেএস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিয়ম বর্হিভূত উপশাখা স্থাপন ও নীতি লঙ্ঘন করে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করছে পারভেজ তমাল ও তার সহযোগী রাসেল আহমেদ লিটন। এসব ঋণ থেকে তমাল বড় অঙ্কের কমিশন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসকেএস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ১৩১টি পার্টনারশিপ উপশাখাসহ প্রায় ৮০০ শাখা-উপশাখা চালু করা হয়। এসব শাখা-উপশাখার ডেকোরেশন ও আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে তমাল-আদনানের বেনামী প্রতিষ্ঠান লানতা সার্ভিসেস, টিএসএন ট্রেড এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং এনআরবিসি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে ওপেন টেন্ডার ও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ফলে তাদের ইচ্ছে মতো অর্থ ব্যয় করে ব্যাংকের খরচ বাড়ালেও দরপত্রে নিজেদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা থাকায় মূলত লাভবান হয়েছে পারভেজ তমাল ও আদনান ইমাম।
সূত্র মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসকেএস ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মাইক্রো ক্রেডিট ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য রিসোর্ট, হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ স্থাপনের নামে নির্দিষ্ট জামানত ছাড়াই দুই শতকোটি টাকার ঋণ দিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। স্বার্থহাসিল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রায়ই নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেছেন তমাল-আদনান চক্র। এছাড়া ২০২২ সালের এপ্রিলে ট্রেইনি অফিসার নিয়োগেও এই চক্রের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
