২০৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপি, নিলামে টেকনো ড্রাগসের কারখানা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের ২০৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপির ঘটনায় গাজীপুরের একটি ওষুধ কারখানা ও জমি নিলামে তুলেছে ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির পরিচালক আরেফিন রাফি আহমেদ।
কারখানাটি নিলামে বিক্রি হলে টেকনো ড্রাগসের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারদরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনো ড্রাগসের পরিচালক আরেফিন রাফি আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গাজীপুরের একটি ওষুধ উৎপাদন কারখানা ও জমি ব্যাংক নিলামে তুলেছে।
তিনি বলেন, “এতে আমাদের ওষুধ উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। শেয়ারের দাম কিছুটা কমতে পারে।”
টেকনো ড্রাগসের পক্ষে নেওয়া ঋণের দায়ের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ জালাল উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারম্যান খালেদা আখতার খান এবং পরিচালক মেহরীন আহমেদ, আরেফিন রাফি আহমেদ ও মো. মামুনুর রশিদকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সরবরাহের প্রায় ৯৬ কোটি টাকার একটি দরপত্রে আবেদন করেছে টেকনো ড্রাগস। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোম্পানির প্রধান কারখানা নিলামে বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ওষুধ উৎপাদন ও সরকারি সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
টেকনো ড্রাগস অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ, ইনজেকশন, হরমোন এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষায়িত অনকোলজি ওষুধ উৎপাদন করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক চাপে পড়েছে।
টেকনো ড্রাগসের বিরুদ্ধে মুনাফার নির্ধারিত অংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করা এবং আয়কর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারকে কেন্দ্র করে অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিলাম ও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে টেকনো ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ জালাল উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
২০৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপির ঘটনায় কারখানা নিলামে ওঠায় কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতা, সরকারি সরবরাহ কার্যক্রম এবং পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামের ওপর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
