সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

ইউনাইটেড পাওয়ারের বিরুদ্ধে ৯৮১ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি-বিদ্যুত খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৯৮১ কোটি টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা দুদকের উপ-পরিচালক (বিসি অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলমের অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আদালতে দাখিল করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে অনিয়মসংক্রান্ত চারটি অভিযোগ একত্রে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনায় দুদকের প্রাথমিকভাবে ধারণা হয়েছে, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে আইপিপি রেটের সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাসের জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং কর্ণফুলী গ্যাসের অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করেনি। দুই প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *