শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

ইউসিবির রাইট ইস্যুতে অসঙ্গতি, ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির রাইট ইস্যু আবেদনে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকটির কাছে ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সম্প্রতি বিএসইসির কর্পোরেট ফাইন্যান্স ডিভিশন থেকে ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নিরীক্ষায় বড় প্রভিশন ঘাটতি
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউসিবির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি এবং ১৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত সুদ আয় দেখানো হয়েছে। এই সমন্বয় করলে ঘোষিত ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার মুনাফা প্রকৃতপক্ষে ৫ হাজার ৪৩০ কোটিরও বেশি লোকসানে পরিণত হয়। এতে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
ফলে ব্যাংকটির ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও (সিএআর) কমে দাঁড়ায় ৭.৪৪ শতাংশে, যা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১২.৫০ শতাংশের অনেক নিচে। বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী বছরে সন্তোষজনক মুনাফা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান রাইট শেয়ার ইস্যু করতে পারে না। এই অবস্থায় ইউসিবি ওই শর্ত পূরণ করছে না বলে কমিশন মনে করছে।
পরিচালকদের শেয়ার ধারণে ঘাটতি
ইউসিবির স্পনসর ও পরিচালকেরা ব্যাংকের মোট শেয়ারের মাত্র ১০.২৭ শতাংশ ধারণ করছেন। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্পনসর, প্রমোটার ও পরিচালকদের যৌথভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক।
এই ঘাটতি পূরণ না করে রাইট ইস্যু আবেদন করায় ইউসিবি বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে কমিশন।
ব্যাখ্যা চাওয়ার নির্দেশ
বিএসইসি জানিয়েছে, রাইট ইস্যু সংক্রান্ত ঘাটতি পূরণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ১৫ দিনের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, “ইউসিবির রাইট ইস্যু আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। কিছু বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ইউসিবির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *