সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

একের পর এক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, শেয়ারবাজারে অচল কোম্পানি ৩৭

একের পর এক তালিকাভুক্ত কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় দেশের শেয়ারবাজারে অচল কোম্পানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। কোম্পানিটির কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ পাওয়ার পর শেয়ারবাজারে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭টিতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ডিএসইর একটি পরিদর্শন দল সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম চলার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এমনকি কারখানাটিতে স্বাভাবিক কোনো কার্যক্রমও চলছিল না। পরবর্তীতে সোমবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে পরিদর্শনের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে শেয়ারনিউজে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে মর্মে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তবে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল।

নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণসুবিধা দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও বেশ দুর্বল। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ৩ টাকা ৮১ পয়সা। এর আগেও কোম্পানিটির কারখানা ও প্রধান কার্যালয় বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে ডিএসইর একটি পরিদর্শন দল কারখানা ও প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সেগুলো বন্ধ অবস্থায় পেয়েছিল। সে সময়ও পরিদর্শন দল ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘জেড’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ারের সংখ্যা ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার।

সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলই একমাত্র কোম্পানি নয়, গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এসব কোম্পানির কেউ উৎপাদন বন্ধের কারণ জানিয়েছে, আবার কেউ কোনো ব্যাখ্যাই দেয়নি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ডিএসইর পরিদর্শন দল সরেজমিনে গিয়ে বন্ধ অবস্থায় পেয়েছে।

সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলকে সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত করলে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭টিতে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্টিল, টেক্সটাইল, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের কোম্পানি।

ডিএসইর তথ্য বলছে, এসব কোম্পানির অধিকাংশের উৎপাদন কার্যক্রম ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বন্ধ হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তারও আগে থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির উৎপাদন ২০০২ সাল থেকেই বন্ধ। আর বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে।

এর আগে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কোম্পানিটি জানিয়েছিল, গত ১ আগস্ট থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ব্যাংক হিসাব স্থগিত হওয়া, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা, কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানিতে বাধা, দক্ষ শ্রমিকদের চলে যাওয়া এবং জনবল সংকটের কারণে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছিল, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার উৎপাদনে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।

এদিকে ডিএসইর তালিকায় বর্তমানে মোট ৩৬০টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি ১৬০টি, ‘বি’ শ্রেণির ৭৪টি এবং ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানি রয়েছে ১২৬টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *