এডিবি কারিগরি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে (বিএসইসি)
দেশের শেয়ারবাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাজার মূলধন বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘টেকসই অর্থায়ন ও শেয়ারবাজার উন্নয়ন সাব-প্রোগ্রাম-১’ এর আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে বৈশ্বিক দাতা সংস্থাটি।
সম্প্রতি বিএসইসি এই প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত আগ্রহের কথা জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে একটি (ইআরডি) চিঠি পাঠিয়েছে। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছিল কমিশন। গত ৯ মার্চ বিএসইসি ও এডিবির প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কারিগরি সহায়তার বিভিন্ন দিক ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জিডিপিতে অবদান বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য
বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের আকার মাত্র ১০ শতাংশের আশেপাশে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে বৃহৎ কোম্পানি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় কর ও নীতিগত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বন্ড মার্কেট ও কাঠামোগত সংস্কার
এডিবির কারিগরি সহায়তার অন্যতম প্রধান দিক হলো একটি কার্যকর ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠন করা। এর জন্য উপযুক্ত মডেল নির্ধারণে সমীক্ষা পরিচালনা এবং এটি বাস্তবায়নে যোগ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতেও সহায়তা করবে এডিবি। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও কমিশনের রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এডিবির বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফলে শেয়ারবাজার আরও স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
