বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাংকটির নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মাহামুদ সবুজ অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার মোদাসসার আহমেদ সিদ্দিক এফসিএ ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।
নিরীক্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে ওয়ান ব্যাংক ২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, ২ হাজার ৩৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা শেয়ারহোল্ডারস’ ইকুইটি, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ০.২০ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২১.৯২ টাকা দেখিয়েছে। তবে ব্যাংকটি ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ৩ হাজার ৯০৩ কোটি ৪ লাখ টাকার প্রভিশন স্বীকৃতি দেয়নি।ভিত্তিতে অশ্রেণিকৃত অবস্থায় রেখেছে, যদিও সেগুলো বাস্তব সূচকের ভিত্তিতে বিরূপ শ্রেণিকরণের যোগ্য ছিল। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ঋণের অর্জিত সুদ আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বিধি অনুযায়ী ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হওয়ার কথা ছিল।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, এ ধরনের আয় হিসেবে স্বীকৃত সুদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়নি। তবে তাদের ধারণা, এই অশ্রেণিকৃত রাখা ঋণগুলোর বিপরীতে স্বীকৃত সুদের পরিমাণ কয়েকশ’ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। যদি ঋণগুলোকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করা হতো, তাহলে ওই সুদ আয় হিসেবে গণ্য হতো না এবং ব্যাংকের ঘোষিত সুদ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত। একই সঙ্গে প্রভিশন সংক্রান্ত অতিরিক্ত সমন্বয়, কর এবং ডিফার্ড ট্যাক্সের প্রভাব বিবেচনায় মুনাফা ও শেয়ারহোল্ডারস’ ইকুইটির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।
এছাড়া আর্থিক বিবরণীর ১৩.৩ নম্বর টীকায় উল্লিখিত মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও) সম্পর্কেও আপত্তি তুলেছেন নিরীক্ষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৮ (২১ ডিসেম্বর ২০১৪) অনুযায়ী ব্যাংককে একক (Solo) ও সমন্বিত (Consolidated) উভয় ভিত্তিতেই ন্যূনতম মোট মূলধন এবং ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১২.৫০ শতাংশ অনুপাত বজায় রাখতে হয়।
কিন্তু ওয়ান ব্যাংক ২০২৫ সালের শেষে একক ভিত্তিতে ১১.১২ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ১১.৩৩ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে রয়েছে।
সার্বিকভাবে নিরীক্ষকের ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে উঠে আসা তথ্যগুলো থেকে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থান, প্রভিশন ব্যবস্থাপনা, ঋণ শ্রেণিকরণ এবং মূলধন পর্যাপ্ততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিরীক্ষক মতামত অক্ষুণ্ন রাখলেও এসব বিষয়ের প্রতি বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অংশীজনদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *